নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউনে সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসনের বন্ধ ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হল এক তরুণীর পচাগলা মৃতদেহ! গত দু’-তিনদিন ধরে তাঁকে ফোনে পাচ্ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা। ফ্ল্যাট থেকে ভেসে আসছিল মৃদু দুর্গন্ধ। বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর দেহ উদ্ধার করে টেকনোসিটি থানার পুলিশ। তবে, মৃত্যু নিয়ে রহস্য দানা বেঁধেছে। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। বিষক্রিয়ার কারণেই তাঁর মৃত্যু বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম অপলা প্রধান (৩০)। জামশেদপুরে তাঁর বাড়ি। তিনি পেশায় আইটি কর্মী ছিলেন। কর্মসূত্রে নিউটাউনের ওই ফ্ল্যাটে ভাড়ায় থাকতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দু’-তিনদিন ধরে অপলার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছিলেন না। প্রথমে তাঁরা ভেবেছিলেন, হয়ত কাজের ব্যস্ত, তাই ফোন ধরছেন না। প্রতিবেশীরাও পুলিশকে জানিয়েছেন, ওই সময়ের মধ্যে তাঁকে ফ্ল্যাট থেকে বেরতে দেখা যায়নি। ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হতেই সন্দেহ হয় প্রতিবেশীদের। তাঁরাই পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ গিয়ে দেখে, ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ। তারপর লক ভেঙে দরজা খোলা হয়। দেহ উদ্ধারের পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে।
কী কারণে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্ত ও ভিসেরা পরীক্ষার রিপোর্ট এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। বিষক্রিয়ায় মৃত্যু হয়েছে কি না, তা নিয়েও ধন্দ রয়েছে। মৃত্যুর পিছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মৃত্যুর আগে তাঁকে শেষ কবে এবং কোথায় দেখা গিয়েছে, কারও সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন কি না, তা জানার চেষ্টা চলছে। সপ্তাহান্তে তাঁর ফ্ল্যাটে কারা এসেছিলেন, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ভিজিটর রেকর্ড এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে। অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু হলেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সম্ভাবনা এখনই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, দু’-তিনদিন আগেই তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। কারণ, দেহে পচন ধরতে শুরু হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মৃত্যুর দিন ও সময় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে পারবে।