নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ফ্ল্যাটের মধ্যে পাওয়া গেল বৃদ্ধ দম্পতির দেহ। পঞ্চসায়র থানা এলাকার নয়াবাদে একটি বন্ধ ফ্ল্যাটের ভিতর থেকে রবিবার সকালে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় অসিত আশকে (৬৬)। বিছানায় মৃত অবস্থায় মেলে তাঁর স্ত্রী মন্দিরা আশের (৬০) দেহ। ফ্ল্যাটের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ ছিল। স্ত্রীর মৃত্যু কীভাবে, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। বছর কয়েক আগে দু’টি কিডনিই বিকল হয়ে যাওয়ায় মারা গিয়েছিল তাঁদের ১২ বছরের ছেলে। তারপর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন দম্পতি। সেই অবসাদ থেকেই কি অসিতবাবু আত্মঘাতী হয়েছেন? নাকি, অসুস্থ স্ত্রী মারা যাওয়ায় মানসিক যন্ত্রণার কারণে তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন, তা স্পষ্ট নয়। কারণ দু’দিন আগেই হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়ে বাড়ি এসেছিলেন হৃদরোগী মন্দিরা দেবী। এর পিছনে আবার পরিকল্পিত মৃত্যুর রহস্যও দানা বেঁধেছে। অসিতবাবু স্ত্রীকে একগাদা ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নিজে আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন বলেও মনে করছেন তদন্তকারীরা। ফলে তাঁরা তদন্তে সব দিকই খোলা রাখছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অসিতবাবু ও মন্দিরাদেবী এই ফ্ল্যাটে দীর্ঘদিন ধরে থাকেন। তাঁর বোন ও ভগ্নিপতি থাকেন পাশের ফ্ল্যাটে। কয়েক মাস আগে অসিতবাবু হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সেই সময় কোমায় চলে যান। ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর মাস দুই আগে তিনি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পান। এদিকে, মন্দিরাদেবী গত সেপ্টেম্বর মাসে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। দু’দিন আগে হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ায় বাড়ি ফেরেন তিনি। তাঁদের দেখভাল করতেন বোন। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকাল ৯টা নাগাদ বোন ওই ফ্ল্যাটের কলিং বেল বাজালে কেউ দরজা খোলেননি। এমনকি, দরজা ধাক্কা দিলেও কোনো সাড়াশব্দ পাননি। তখন পিছনের জানালার কাচ সরিয়ে দেখেন, অসিতবাবু ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি পঞ্চসায়র থানায় ফোন করলে পুলিশ আসে। এরপর সকলের উপস্থিতিতে দরজা ভাঙা হয়। দেখা যায়, বিছানায় সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছেন মন্দিরাদেবী। পাশের ঘরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে কাপড় জড়িয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন অসিতবাবু। দু’জনকেই হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা দম্পতিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘর থেকে মিলেছে ওষুধের স্ট্রিপ।
ছেলে মারা যাওয়ার পর এই দম্পতি কারওর সঙ্গে তেমন মেলামেশা করতেন না। এরমধ্যে দু’জনেই অসুস্থ হয়ে পড়লে হতাশা গ্রাস করে তাঁদের। তদন্তকারীদের অনুমান, অবসাদ থেকেই আত্মঘাতী হয়েছেন গৃহকর্তা। তবে স্ত্রীর মৃত্যু নিয়ে ধন্দ রয়েছে। অসিতবাবুর মনে হয়ে থাকতে পারে, নিজের কিছু হলে স্ত্রীকে দেখবে কে। তাই কি স্ত্রীকে একগাদা ওষুধ খাইয়েছিলেন তিনি? সেকারণেই কি মন্দিরাদেবীর মৃত্যু? আবার মন্দিরাদেবীর অসুস্থতাজনিত মৃত্যুও হতে পারে। তা দেখে মাথা ঠিক রাখতে পারেননি স্বামী। সেকারণেই আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন তিনি। তদন্তকারীরা এখন ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছেন। নিজস্ব চিত্র