নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: অশোকনগরে একই বাড়ি থেকে বাবা ও ছেলের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। শনিবার সকালে অশোকনগর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাওয়ার হাউসের গলিতে ঘটনাটি ঘটে। মৃতরা হলেন কমল রাউত (৬৯) এবং তাঁর ছেলে সঞ্জয় রাউত (৪৫)। সঞ্জয় অশোকনগরের প্রাক্তন যুব তৃণমূল সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাড়ির বারান্দায় সঞ্জয়কে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশীরা। একই সময়ে ঘরের ভিতরে বিছানায় অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাঁর বাবা কমলকে। খবর ছড়িয়ে পড়তেই প্রতিবেশীরা বাড়িতে পৌঁছে দু’জনকে উদ্ধার করেন। তাঁদের অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা দু’জনকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার পরই বাবা-ছেলের মৃত্যু ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয়দের অনুমান, ব্যবসায় মন্দা এবং আর্থিক চাপের কারণেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন সঞ্জয়। অসুস্থ বাবাকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর তিনি আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারেন বলেও অনুমান স্থানীয়দের একাংশের। তবে বৃদ্ধ কমলের মৃত্যুর কারণ নিয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কমল দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। হৃদরোগের সমস্যাও ছিল তাঁর। অন্যদিকে, বাবার অসুস্থতার পর কমলবাবুর ব্যবসার দায়িত্ব নেন সঞ্জয়। বাংলাদেশে আলু ও পেঁয়াজের আমদানি-রপ্তানির ব্যবসা চালাতেন তিনি। কিন্তু বেশ কয়েকবছর ধরেই ব্যবসায় মন্দা চলছিল। বাজারে কিছু ঋণও হয়েছিল সঞ্জয়ের। সেই কারণে বেশ কিছু দিন ধরে তিনি মানসিক চাপে ছিলেন। কমলবাবু নিজেও আগে আমদানি-রপ্তানির ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর দুই সন্তান। বড় ছেলে সঞ্জয় অবিবাহিত। ছোট মেয়ের বিয়ে হয়েছে কৃষ্ণনগরে। বাবার অসুস্থতার কারণে সঞ্জয় ও কমল অশোকনগরের বাড়িতেই একসঙ্গে থাকতেন। ঘটনার খবর পেয়ে অশোকনগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। দু’জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করেছে পুলিশ। পরিবারের সদস্য সন্ধ্যা রাউত বলেন, এদিন সকালে উঠে এসে দেখি বাড়ির বারান্দায় ঝুলছে সঞ্জয়। ডাকাডাকি করলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। আর বাড়ির ভেতরে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পড়ে কমল। দু’জনকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও, কাউকে বাঁচানো যায়নি। ওদের বাড়িতে কোনো অশান্তি ছিল না। কিন্তু তারপরেও কেন এমন হল বুঝলাম না। এদিকে বারাসত পুলিশ জেলার সুপার জে মার্সি বলেন, সঞ্জয় রাউত বারান্দায় আত্মঘাতী হয়েছেন। তাঁর বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ ছিলেন। দু’জনের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট হাতে এলে বৃদ্ধের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।



