দত্তপুকুরে গাড়ির ভিতর থেকে উদ্ধার ‘রহস্যজনক’ রাসায়নিক, তল্লাশিতে এনএসজি, এনআইও, বেঙ্গল এসটিএফ
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও বারাসত:  দত্তপুকুরে প্রাইভেট গাড়ির ভিতর থেকে রহস্যজনক রাসায়নিক উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল। বুধবার দশমীর সন্ধ্যায় ওই গাড়ির ভিতর ড্যাশবোর্ড ও ডিকির নীচের অংশ থেকে উদ্ধার হয় সাদা ও হলুদ রঙের রাসায়নিক। বিস্ফোরক সন্দেহে খবর দেওয়া হয় বেঙ্গল এসটিএফ, এনআইএ এবং এনএসজিকে। যৌথভাবে পরীক্ষার পর জানা যায়, গাড়ি থেকে কোনও বিস্ফোরক মেলেনি। তবে কিছু রাসায়নি উদ্ধার হয়েছে। যা বিস্ফোরক তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেগুলির প্রকৃতি কী জানতে, নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। গা঩঩ড়িটির মালিক শেখ রাকিবুল ইসলামকে আটক করেছেন তদন্তকারীরা। তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশের সংস্রব রয়েছে। কোথা থেকে তিনি এই রাসায়নিক পেলেন, জেরা করে জানার চেষ্টা চলছে।

Advertisement

কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাছে খবর আসে দত্তপুকুর এলাকার তেতুঁলতলা মো঩ড়ে একটি গাড়িতে করে বিস্ফোরক পাচার হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে। সেই খবরের ভিত্তিতে দত্তপুকুর থানাকে গাড়িটিকে একটি টু-হুইলার শো- রুমের সামনে থেকে আটক  করে। সেখানে গাড়িটি সকাল থেকেই দাঁড়িয়ে ছিল।  ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বেঙ্গল এসটিএফ, এনএসজি ও এনআইএ টিম। গাড়ির ভিতর যৌথভাবে তল্লাশি চালিয়ে তিন কেজি রাসায়নিক ও ১০ কেজি সপ্লিন্টার উদ্ধার হয়। হলুদ ও সাদা রঙের রাসায়নিক।  
তদন্তকারীরা সন্দেহ করছিলেন, বড় মাপের বিস্ফোরক রয়েছে। যৌথ টিমের সদস্যরা জানতে পারেন, গাড়িটির মালিক রাকিবুল ইসলাম। এরপর তাঁকে আটক করা হয়। রাকিবুলের বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গায় যৌথ অভিযান চালানো হয়। বাড়ি থেকে একটি ল্যাপটপ ও দুটি মোবাইল বাজেয়াপ্ত করে তারা। এনএসজির  বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ টিম উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক ডিটোনেটরে ভরে ডিফিউজ করে। দেখা যায় ডিটোনেটর ফাটলেও, কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়নি। তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, বড় মাপের কোনও বিস্ফোরক নেই। রাজ্য পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া রাসায়নিক বিস্ফোরক নয়। তদন্তে জানা যাচ্ছে,রাকিবুলের বেড়াচাঁপা, দত্তপুকুর সহ ওই এলাকার বিভিন্ন জায়গায় গাড়ির পাঁচটি শো-রুম রয়েছে। গাড়ির মেকানিক থেকে তিনি শো-রুমের মালিক হন। যে গাড়ি থেকে রাসায়নিক মিলেছে সেটি করেই তিনি যাতায়াত করতেন।  তিনি তদন্তকারীদের কাছে দাবি করেছেন, গাড়িটি সার্ভিস করাতে গ্যারাজে দিয়েছিলেন। তিনদিন আগে  গাড়িটি হাতে পান। এই গাড়ি নিয়ে বুধবারও শো রুমে এসেছিলেন। গাড়ির ভিতর রাসায়নিক কোথা থেকে এল, তা তাঁর জানা নেই। যদিও তাঁর এই বক্তব্য পুরোপুরি বিশ্বাস করতে রাজি নন তদন্তকারীরা। গাড়ির ভিতর রাসায়নিক লুকিয়ে রাখায় সন্দেহ আরও দৃঢ় হচ্ছে। তিনি এই রাসায়নিক কোথা থেকে পেলেন বা গ্যারাজের কেউ তাঁর নির্দেশমতো এই রাসায়নিক লুকিয়ে রেখেছিল কি না, সেটা জানার চেষ্টা চলছে। যে গ্যারাজে কাজ হয়েছিল সেখানকার মেকানিকদের ডেকে পাঠিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীদের ধারণা, সাদা রাসায়নিক সোডিয়াম হাইড্রক্সাইড হতে পারে। এই যৌগ বিস্ফোরক তৈরির উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। হলুদ রঙের রাসায়নিক পটাসিয়াম ক্রোমেট বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। এই দুই রাসায়নিক এল 
কোথা থেকে, সেটাই জানার চেষ্টা চলছে। -নিজস্ব চিত্র