Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিধায়ক তহবিল থেকে এলাকার নানান কাজের দাবি মোশারফের

রাজ্যের শেষতম বিধানসভা মুরারই। ২০২১সালে এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন পেশায় শিশু চিকিৎসক মোশারফ হোসেন। পাঁচবছর পেরিয়ে ফের দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন

বিধায়ক তহবিল থেকে এলাকার নানান কাজের দাবি মোশারফের
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: রাজ্যের শেষতম বিধানসভা মুরারই। ২০২১সালে এই কেন্দ্র থেকে বিধায়ক হয়েছিলেন পেশায় শিশু চিকিৎসক মোশারফ হোসেন। পাঁচবছর পেরিয়ে ফের দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। আগামী ২৩ এপ্রিল মুরারইয়ের বাসিন্দারা ভোট দেবেন। এই পাঁচ বছরে বিধায়ক তহবিলে তিনি ৩ কোটি ৩০লক্ষ টাকা পেয়েছেন। তার মধ্যে ৩ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা তিনি খরচ করতে পেরেছেন। যদিও সেই টাকায় কিছু কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বহু কাজ এখনও চলছে। কোনও কাজ আবার টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। 

Advertisement

মোশারফ সাহেবের দাবি, বিধায়ক তহবিল থেকে তিনি প্রতিটি অঞ্চলে চারটি করে হাইমাস্ট লাইট বসিয়েছেন। বেশকিছু গ্রামে সোলার পথবাতি বসিয়েছেন। তিনটি গ্রামে সাংস্কৃতিক মঞ্চ ও তিনটি এলাকায় সাবমার্সিবল পাম্প বসিয়ে সেচের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া নিকাশি নালা, খেলার মাঠের উন্নয়ন, কম দূরত্বের রাস্তাও করেছেন। এছাড়াও তাঁর দাবি, বিভিন্ন দপ্তরে দরবার করে পাইকরে মডেল স্কুল, গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার ও চিকিৎসক যাতে থাকেন সেই ব্যবস্থা করেছেন। পাইকরে দমকল কেন্দ্র গড়ে ওঠার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে। তার আগে একটি ফায়ারের গাড়ি মিলবে। মুরারই গ্রামীণ হাসপাতাল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে উন্নীত হয়েছে। কাশিমনগরে কমিউনিটি সেন্টার করেছেন। জাজিগ্রামে পশু হাসপাতাল হচ্ছে। কলহপুর গ্রামে পশুপালনের ট্রেনিং সেন্টার হচ্ছে। তাঁর প্রচষ্টোয় মুরারইয়ের রেলের আন্ডারপাস হয়েছে বলে দাবি। তিনি বলেন, তহবিলের টাকায় ১০০শতাংশ কাজ করতে পেরেছি। যে টাকাটা খরচ না হওয়ার কথা বলা হচ্ছে সেটা ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেটের জন্য। আমি আমার কাজে সন্তুষ্ট। 
যদিও বিরোধীরা বলছেন, তাঁর আমলে পিছিয়ে পড়া এই বিধানসভা এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনও উন্নয়নই হয়নি। এলাকার সিপিএম নেতা আলি রেজা বলেন, বিধায়কের বাড়ি ভীমপুর গ্রামে। সেখানে স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার হয়েছে ঠিকই। কিন্তু চিকিৎসকের কোয়ার্টারে পুলিশ ফাঁড়ি হয়েছে। চিকিৎসক থাকেন না। জাজিগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্র এখন নেশাখোরদের আখড়া হয়েছে। উনি মুরারই কলেজের সভাপতি। কিন্তু কলেজে একটিও কলে মুখ লাগাননি। বাম আমলে মুরারই থেকে বাঁশলৈ বাইপাস রাস্তার জন্য জমি অধিগ্রহণ হলেও আজও তা বাস্তব রূপ পায়নি। এলাকার মার্কেটিং হাবগুলি বন্ধ। নন্দীগ্রামে এখনও মডেল স্কুল গড়ে উঠলেও চালু হয়নি। 
কংগ্রেস নেতা আসিক ইকবাল বলেন, হাইমাস্ট লাইট আর কয়েকটা সাবমার্সিবল পাম্প বসানোকে উন্নয়ন বলে না। মীরপুরে সেচ ক্যানেল ও রামচন্দ্রপুরের পাগলা নদীর উপর এখনও ব্রিজ হল না। মানুষকে অনেক কষ্ট করে যাতায়াত করতে হয়। একসময় জাজিগ্রাম থেকে সিউড়ি, হরিশপুর থেকে সিউড়ি, বহুতাল থেকে বহরমপুর সহ একাধিক সরকারি বাস চলত। সেগুলি পুনরায় চালু করেননি বিধায়ক। মুরারই বাজারে যানজট সমস্যা নিয়ে কোনও উদ্যোগ নেননি। রেলের আন্ডারপাসের কৃতিত্ব তিনি দাবি করেছেন, সেটা রেলের প্রকল্প। বিধায়কের কৃতিত্ব নেই। 
বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক শান্তনু মণ্ডল বলেন, মুরারই এলাকার উন্নয়নে কোনও চিন্তাই করেননি বিধায়ক। বাইপাস, প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। হাইমাস্ট লাইট রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে খারাপের পথে। গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে চিকিৎসকের দেখা মেলে না। লেভেল ক্রসিংয়ে ওভারব্রিজের অনুমোদন হয়েছিল। কিন্তু বিধায়ক অ্যাপ্রোচ রোডের ব্যবস্থা করতে না পারায় আন্ডারপাস হয়েছে। তখন থেকে দুর্গতি শুরু হয়েছে। বৃষ্টি হলেই আন্ডারপাসে জল দাঁড়িয়ে পড়ে। আমাদের প্রার্থী রিঙ্কি ঘোষকে মানুষ ভোট দেবে। 

সম্পর্কিত সংবাদ