


নয়াদিল্লি: মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রানাকে ভারতে আনার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা সারেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপরই যৌথ সাংবাদিক বৈঠকে রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণের কথা জানান ট্রাম্প। সূত্রের খবর, প্রত্যর্পণ রুখতে আপ্রাণ চেষ্টা শুরু করেছে রানা। এরজন্য মুসলিম ও পাকিস্তানি কার্ড খেলা শুরু করেছে সে। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে রানা জানিয়েছে, পাকিস্তানি এবং মুসলিম হওয়ার জন্য তাঁকে ভারতে অমানুষিক অত্যাচার করা হতে পারে। শুধু তাই নয়, প্রত্যর্পণ রুখতে মার্কিন মুলুকের মানবাধিকার সংগঠনগুলির সমর্থন পাওয়ারও চেষ্টা করছে সে। পাশাপাশি সে বলেছে, ‘আমি এখন হেঁটেচলা টাইম বম্ব। পার্কিনসন্স এবং ক্যানসারের মতো নানাবিধ রোগে ভুগছি।’
সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করে রানাকে ভারতে আনতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। তবে তাকে যে মহারাষ্ট্রের কোনও জেলে রাখা হবে, তা একপ্রকার নিশ্চিত। এ প্রসঙ্গে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ বলেন, ‘আমরা আজমল কাসবকে রেখেছিলাম। তাই রানার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে কোনও সমস্যা হবে না।’ সূত্রের খবর, রানাকে ভারতে এনে এনআইএ আদালতে তোলা হবে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রানাকে নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করবে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)।
২০০৯ সালে ডেনমার্কে হামলার চেষ্টা করেছিল নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তোইবা। সেই হামলা ব্যর্থ হলেও লস্করকে সরঞ্জাম সরবরাহ মামলায় মার্কিন মুলুকে দোষী সাব্যস্ত হয় আদতে পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত কানাডার বাসিন্দা রানা। তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছে ডেভিড হেডলিও। তবে ভারতে জঙ্গি কার্যকলাপের মামলায় বেকসুর ঘোষণা করা হয় রানাকে। তবে এরপরেও রানাকে ভারতে আনার চেষ্টা চালু রাখে দিল্লি।