


নয়াদিল্লি: একের পর এক মামলা, প্রাণহানির ঝুঁকির ‘অজুহাত’ দিয়েও কোনও লাভ হল না। অবশেষে আমেরিকা থেকে ভারতের নিয়ে আসা হচ্ছে ২০০৮ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী তাহাউর রহমানকে। বুধবার রাতে বা বৃহস্পতিবার ভোরেই তার ভারত পৌঁছে যাওয়ার কথা। সূত্রের খবর, মার্কিন মুলুক থেকে বিশেষ বিমানে রানাকে ভারতে আনা হচ্ছে। তবে কোন বিমানবন্দরে অবতরণ করবে ওই বিমান? সেখান থেকে অভিযুক্তকে কোথায় নিয়ে যাওয়া হবে? বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনই বহু প্রশ্নের জবাব মেলেনি। এরইমধ্যে হাতে পাওয়ার পর রানাকে কোথায় রাখা হবে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এদিন হয়েছে বলে খবর। মুম্বইতে আনা হলে তাঁকে আর্থার রোড জেলে রাখা হবে বলেও জানা গিয়েছে। সেজন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলটিকে।
ভারতে প্রত্যার্পণ ঠেকাতে চেষ্টার কোনও কসুর করেননি রানা। বারবার মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। জানিয়েছেন, তিনি একাধিক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত। ভারতে গেলে তিনি বেশি দিন বাঁচতে পারবেন না। অভিযোগের সুরে রানা জানিয়েছিলেন, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক শত্রুতার কারণেই তাঁকে ভারতে নিয়ে যেতে চাইছে। কিন্তু তার কোনও অজুহাতই কানে তোলেনি মার্কিন আদালত। প্রত্যার্পণে সবুজ সঙ্কেত দেয় তারা। তাছাড়া, গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দু’জন যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও করেন। সেখানে ট্রাম্প সাফ জানান, ভারতের বিচার ব্যবস্থার মুখোমুখি হতেই হবে রানাকে। মার্কিন আদালত ও প্রশাসনের তরফে সবুজ সঙ্কেত পেতেই তৎপর হয় নয়াদিল্লি। সেইমতোই তাঁকে ফেরানো হচ্ছে।
উল্লেখ্য, মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত মার্কিন জঙ্গি ডেভিড কোলম্যান হেডলি। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন রানা। একাধিক অভিযোগে মার্কিন মুলুকে সাজাও খাটছিলেন তিনি। কিন্তু, করোনা সংক্রমণের সময় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবণতি হওয়ায় জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু, ভারতে প্রত্যার্পণ নিশ্চিত হতেই তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করে ট্রাম্প প্রশাসন।