নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘যতই জেলে বন্দি করুন, কিংবা ভয় দেখান, আন্দোলন কোনোমতেই দমানো যাবে না। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত এভাবেই প্রতিবাদ হবে।’ শনিবার দিল্লির পুলিশ-প্রশাসন তথা মোদি সরকারকে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিল ‘ককরোচ’রা। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) একের পর এক শীর্ষ নেতাকে আটক-গ্রেপ্তার কিংবা অন্যভাবে হেনস্তার অভিযোগ উঠছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। এই পরিস্থিতিতে জেন জি’র এমন হুংকার স্বাভাবিকভাবেই জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনে অন্য মাত্রা যোগ করছে। সিজেপির অন্য দু’জন শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা বর্তমানে জেল হেপাজতে। অবিলম্বে তাঁদের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে জেন জি। শুক্রবার ককরোচদের ডাকা ‘তেরঙ্গা’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ায় আটক করা হয়েছিল আইসা নেত্রী নেহা বোরাকেও। গভীর রাতে তিনি মুক্তি পান। ককরোচ প্রধান অভিজিৎ দিপকেকে নিয়ে বিগত ২৪ ঘণ্টায় বেনজির টালবাহানা হয়েছে। শুক্রবার বিকালে প্রথমে তাঁকে ‘সতর্কতামূলক’ আটক করার কথা জানায় দিল্লি পুলিশ। পরে অনেক রাতে ঘোষণা করা হয়, গ্রেপ্তার করা হয়েছে দিপকেকে। শনিবার বিকালে তিনি শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বটে, কিন্তু সেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতেও পুলিশ অযথা দেরি করেছে বলে অভিযোগ ‘ককরোচ’দের। গতকাল রাতে গ্রেপ্তারের কথা স্বীকারের পর পুলিশ জানায়, দিপকেকে দিল্লির মন্দির মার্গ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বেলা ১২টার আশেপাশে তাঁকে স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করানো হবে। কিন্তু বাস্তবে ককরোচ প্রধানকে আদালতে তোলা হয় বিকাল সাড়ে ৩টেরও পরে। ইতিমধ্যে মন্দির মার্গ থানায় শুরু হয়ে যায় ‘ককরোচ’দের বিক্ষোভ। সেখানে এদিন মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভ শুরু হতেই ঘটনাস্থলে আসে র্যাফ, আধাসেনা। যন্তরমন্তর সহ দিল্লির বিস্তীর্ণ এলাকায় এদিন ছিল কড়া নিরাপত্তা। সন্ধ্যায় ককরোচ প্রধানের জামিনের খবর আসে। দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, দিপকের জামিনের অন্যতম শর্ত ৫০ হাজার টাকার ‘পিস বন্ড’। পরবর্তী এক বছরে শান্তি বিঘ্নিত হয় এমন কোনো কাজ করতে পারবেন না—এই মর্মে চুক্তিতে সই করতে হয়েছে তাঁকে। সংগঠনের শীর্ষ নেতা মুক্তি পাওয়ার আগেই অবশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে ‘ককরোচ’রা—‘একজন অভিজিৎ দিপকে গ্রেপ্তার হলে এক হাজার দিপকে রাস্তায় নামবে। একজন সৌরভ গ্রেপ্তার হলে এক হাজার সৌরভ আন্দোলনে যোগ দেবে। একজন আশুতোষের জন্য হাজার হাজার আশুতোষ তৈরি হয়ে যাবে। পুলিশ সামলাতে পারবে না।’ দিল্লি পুলিশের সদর কার্যালয়ের সামনে এদিন তুমুল বিক্ষোভ দেখিয়েছে বামেরা। অভিযোগ, শারীরিকভাবে হেনস্তা করা হচ্ছে মহিলা আন্দোলনকারীদের ।
ককরোচদের জ্ঞানেশ-বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সহযোগী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিও বর্তমানে প্রশাসনের বিষ-নজরে। আট বছরের পুরানো একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে এদিন তাঁর বিরুদ্ধে জামিনযোগ্য ধারায় পরোয়ানা জারি করেছে দিল্লির একটি আদালত। ধ্রুব অবশ্য এখন দেশের বাইরে। এদিন ইউকে’র পার্লামেন্ট স্কোয়ারে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে বিক্ষোভে নেতৃত্বও দিয়েছেন।



