নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: পুজোর চারদিন আবর্জনায় উপচে পড়েছে হাওড়া শহরের একাধিক বড়ো ভ্যাট। কোথাও ভ্যাট ছাপিয়ে রাস্তার উপর ছড়িয়ে পড়েছে নোংরা, কোথাও আবার জমে থাকা আবর্জনা থেকে ছড়িয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। তাতে নাকাল হয়েছেন এলাকার বাসিন্দা থেকে ঠাকুর দেখতে আসা দর্শনার্থীরা। অবশেষে দশমীর পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভ্যাট সাফাইয়ের কাজে নামল হাওড়া পুরসভা। তাতে স্বস্তি ফিরেছে বাসিন্দাদের মধ্যে। তবে পুজোর দিনগুলিতে কেন ভ্যাট পরিষ্কারের কাজ কার্যত বন্ধ ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রামরাজাতলা থেকে পঞ্চাননতলা, বৃন্দাবন মল্লিক লেন থেকে মহেন্দ্র ভট্টাচার্য রোড— শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকার বড়ো ভ্যাটগুলির অবস্থা পুজোর দিনগুলিতে ছিল বেহাল। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত জমতে জমতে আবর্জনার স্তূপ কার্যত পাহাড়ের চেহারা নেয়। রামরাজাতলার ৫২ নম্বর বাসস্ট্যান্ডের কাছে রাস্তার পাশে থাকা বড়ো ভ্যাট থেকে আবর্জনা গড়িয়ে পড়ে রাস্তায়। নতুন পোশাকে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে সেই নোংরা মাড়িয়েই মণ্ডপে যেতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। একই ছবি নেতাজি সুভাষ রোডে শ্যামাশ্রীর সামনে থাকা ভ্যাটে। তীব্র দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়েছেন সেখানকার বাসিন্দারা। জিটি রোডের চওড়া বস্তির কাছে বড়ো ভ্যাট এবং উত্তর হাওড়ার সালকিয়ার পরিস্থিতি ছিল একই রকম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুজো উপলক্ষ্যে গত এক সপ্তাহে রাস্তার দু’পাশে ছোটো-বড়ো অসংখ্য খাবারের স্টল বসেছিল। গৃহস্থের প্রতিদিনের আবর্জনার পাশাপাশি ওই স্টলগুলি থেকেও বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ভ্যাটে জমা পড়ে। পুজোর দিনগুলিতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে আবর্জনা সংগ্রহের কাজ চললেও সেকেন্ডারি কালেকশন পয়েন্ট অর্থাৎ ভ্যাট থেকে আবর্জনা সরানোর কাজ কার্যত হয়নি। ফলে ভ্যাটের আশপাশের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পুরসভার উদ্যোগে ভ্যাট পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় আপাতত স্বস্তি মিলেছে। তবে বাসিন্দাদের একাংশের প্রশ্ন, গত বছর পুজোর মধ্যেও শহরে ভ্যাট পরিষ্কার হয়েছিল। এ বছর
সেই ব্যবস্থা করা গেল না কেন? পুজোর সময় শহর পরিচ্ছন্ন রাখার ক্ষেত্রে পুরসভার এই ঘাটতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।



