


সংবাদদাতা, বনগাঁ: আজ, মঙ্গলবার বনগাঁয় সভা করতে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বনগাঁয় আসছেন শোনামাত্র আনন্দে আত্মহারা তৃতীয় শ্রেণির পড়ুয়া আরোহী অধিকারী। তাঁদের বাড়ির সামনেই প্রতাপগড় মাঠে নামবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হেলিকপ্টার। মেয়ের বায়না, ‘মা আমি দিদির সঙ্গে সেলফি তুলব’। আগে থেকেই সে বাবা-মাকে জানিয়ে দিয়েছে, মঙ্গলবার কোনওমতেই স্কুলে যাবে না। সকাল থেকেই সে হেলিপ্যাডে বসে থাকবে। এমনকি, নিরাপত্তা রক্ষীরা যদি বাধা দেন, তাহলে তাঁদের সঙ্গে ঝগড়া করবে। কিন্তু দিদিকে দেখা চাই-ই চাই। সাফ কথা ছোট্ট আরোহীর। মেয়ের এই আবদার কীভাবে মেটাবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না মা পিঙ্কি অধিকারী।
হেলিপ্যাড থেকে হাত বিশেক দূরে আরোহীদের বাড়ি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খুদে ফ্যান বড় হয়ে তাঁর মতোই হতে চায়। রাজনীতি বোঝে না আরোহী। পরিবারের কেউ রাজনীতি করেন না। কীভাবে মমতার প্রতি খুদের এই ভালোবাসা? আরোহী জানায়, ‘মায়ের ফোনে, টিভিতে দিদিকে দেখেছি। উনি গরিবদের জন্য অনেক কিছু করেন, তাই ভালো লাগে। বাড়ির কাছে আসবেন, আর আমি তার সঙ্গে দেখা করব না, সেটা কি কখনও হয় নাকি।’ কি করে দিদির কাছে যাবি, মায়ের প্রশ্ন শুনেই জবাব, ‘ভোর থেকেই হেলিপ্যাডে গিয়ে বসে থাকব। তাহলে দিদি আমাকে তাড়াতে পারবেন না। দিদি সেলফি তুললে তাঁকে ধন্যবাদ জানাব। প্রণাম করে বলব, আমিও আপনার মতো হতে চাই। মানুষের সেবা করতে চাই।’ কিন্তু মঙ্গলবার যে স্কুল, তাহলে আরোহী মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবে কী করে? প্রশ্ন শুনে তার জবাব, ‘ওইদিন আমি স্কুলে যাব না। এতে পরীক্ষায় নম্বর কাটলে কাটবে।’
কাঁচা হাতে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ছবি আঁকার চেষ্টা করেছে আরোহী। কিন্তু মনের মতো হয়নি। এদিনও সে দিদির ছবি আঁকার চেষ্টা করেছে। ভালো হলে, ফুলের সঙ্গে ছবিটি দিদিকে উপহার দেবে বলে ঠিক করেছে। বাড়িতে শাড়ি পরে মমতার বক্তব্য নকল করে এই খুদে ছাত্রী। সে নিজেই জানাল, ‘দিদি আমার কাছে মায়ের চেয়েও প্রিয়। কিন্তু নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে দিদির কাছে পৌঁছতে পারবে কি না, তা নিজেও জানে না এই ছোট্ট মেয়েটি। মা পিঙ্কি অধিকারী বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন শুনেই বায়না ধরেছে, দিদির সঙ্গে সেলফি তুলব। এটা সম্ভব না বললেই রেগে যাচ্ছে। বাড়িতে সব সময় দিদি আর দিদি।