


সংবাদদাতা, কান্দি: এক যুবক খুনের মামলার সাক্ষ্য দিতে আদালতে যাওয়ার পথে আক্রান্ত হলেন তাঁর মা ও বোন। খুনের ঘটনার অভিযুক্তরা তাঁদের টোটো থেকে নামিয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করে বলে অভিযোগ। শুক্রবার সকালের ওই ঘটনা বড়ঞা থানার সুন্দরপুর গ্রামের। এই ঘটনায় আক্রান্ত পরিবারের পক্ষ থেকে আজাদ শেখ বড়ঞা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২০২৩ সালের ৬ ডিসেম্বর সুন্দরপুর গ্রামের ২৭ বছরের যুবক সামসুল আলম ওরফে সাহেবকে বাড়ির সামনেই লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করে প্রতিবেশীরা। এরপর মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে বড়ঞা থানায় মোট ন’জনের নামে খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে পুলিশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। সম্প্রতি ধৃতরা জামিন পেয়ে বাড়ি ফিরেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, একটি জমির দখল নিয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশীদের দীর্ঘদিন ধরে ঝামেলা চলছিল। জেল থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে অভিযুক্তরা খুনের মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল বলে মৃত যুবকের পরিবারের দাবি। মৃত যুবকের খুড়তুতো দাদা লেবু শেখ বলেন, মাসখানেক আগেই অভিযুক্তরা জামিন পেয়েছে। ওরা বাড়ি ফেরার পর থেকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এমনকি মামলা তুলে না নিলে আবারও খুন হতে পারে বলে শাসাচ্ছিল।আক্রান্ত পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সামসুল সাহেব খুনের মামলার এদিন কান্দি মহকুমা আদালতে সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ছিল। সেজন্য একটি টোটোয় আদালতে যাচ্ছিলেন মৃত যুবকের মা পলি বিবি ও বোন সাইরা খাতুন। কিন্তু, গ্রামের বাথান এলাকায় তাঁদের টোটো থেকে নামিয়ে লাঠিপেটা করা হয় বলে অভিযোগ। মৃতের মা বলেন, আদালতে সাক্ষ্য রয়েছে বলে মা-মেয়ে টোটোয় চড়ে কান্দি যাচ্ছিলাম। কিন্তু, প্রতিবেশী কয়েকজন আমাদের জোর করে টোটো থেকে নামিয়ে লাঠি দিয়ে প্রচণ্ড মারধর করে। রাস্তায় ফেলে আমাদের মারধর করা হয়। মৃত যুবকের বোন সাইরা জানিয়েছেন, ওরা মারধর করার সময় আমাদের মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বলছিল। মামলা না তুললে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে শাসাচ্ছিল। খুন হওয়া যুবকের বাবা আজাদ শেখ বড়ঞা থানায় তিনজনের নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, যাই হোক না কেন, যারা আমার ছেলেকে খুন করেছে, ওদের শাস্তি হয়েছে দেখব। যতই আমাদের মারধর করা হোক, আবারও যদি কেউ খুন হয়, তাহলেও আমারা নত হব না। আমরা এর শেষ দেখে ছাড়ব। তবে এদিন আদালতে সাক্ষ্য দিতে পারেননি মা ও বোন। কান্দিতে তোলা নিজস্ব চিত্র