Bartaman Logo
১১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

৮ বছরে উপকৃত ২২ লক্ষের বেশি গরিব তরুণী, দুশ্চিন্তার অবসান, ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পও চালু রাখার নির্দেশ

গরিব তরুণীদের বিয়েতে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা। ২০১৮ সাল থেকে ‘রূপশ্রী’ নামে এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

৮ বছরে উপকৃত ২২ লক্ষের বেশি গরিব তরুণী, দুশ্চিন্তার অবসান, ‘রূপশ্রী’ প্রকল্পও চালু রাখার নির্দেশ
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও কলকাতা: গরিব তরুণীদের বিয়েতে এককালীন ২৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা। ২০১৮ সাল থেকে ‘রূপশ্রী’ নামে এই প্রকল্প শুরু করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ৮ বছরে ২২ লক্ষের বেশি গরিব পরিবারের তরুণী উপকৃত হয়েছেন এই প্রকল্পের মাধ্যমে। অনুদান দেওয়া হয়েছে সাড়ে ৫ হাজার কোটির বেশি। ভোটের আগে পর্যন্ত এই প্রকল্পে বহু আবেদন জমা পড়েছে জেলায় জেলায়। তার মধ্যে সরেজমিনে বহু আবেদনের ‘ভেরিফিকেশন’ হয়ে গিয়েছে। রিপোর্টও জমা পড়েছে। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত টাকা ছাড়ার ব্যাপারে কোনো নির্দেশিকা আসেনি। তাই ‘রূপশ্রী’র টাকা ঢুকবে কবে, তা নিয়ে আবেদনকারী পাত্রীপক্ষ গভীর চিন্তায় পড়েছিল। প্রশাসন সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার অভ্যন্তরীণ গ্রুপে এই সামাজিক প্রকল্প চালু রাখার নির্দেশই দেওয়া হয়েছে। নতুন করে আবেদনও সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তাতে হাসি ফুটেছে অনেকের মুখেই।

Advertisement

প্রসঙ্গত, নয়া মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন, চালু কোনো সামাজিক প্রকল্পই বন্ধ হবে না। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে গোটা রাজ্যেই চালু হয়েছে ‘রূপশ্রী’ প্রকল্প। কারা কারা এই প্রকল্পে আবেদন করতে পারেন, তার নির্দিষ্ট তালিকাও দেওয়া আছে জেলার দপ্তরগুলিতে। সেই গাইডলাইন অনুযায়ী, যেসব পরিবারের বছরে আয় দেড় লক্ষ টাকার কম, সেই সব পরিবারের তরুণীরা এই আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন। দ্বিতীয়বার বিয়ের ক্ষেত্রে আবেদন গ্রাহ্য হবে না। আবেদন করলে তা বেআইনি বলে ধরা হয়। আবেদনের সময় ‘ম্যারেজ রেজেস্ট্রি’র নোটিস কপি এবং বিয়ের কার্ড জমা দিতে হয়। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পাত্রী ও পাত্র দু’জনকেই বিবাহযোগ্য হতে হয়।
ওই আবেদন জমা পড়ার পর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মীরা আবেদনপত্র খতিয়ে দেখেন। সরেজমিনে তাঁর বাড়িতে গিয়েও তদন্ত করা হয়। যদি সব ঠিক থাকে, তাহলে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। সব শেষে হয় পাত্রীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন হয়। তারপর সরাসরি অ্যাকাউন্টে এককালীন ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। জানা গিয়েছে, গত ৩১ মার্চের মধ্যে হওয়া অনেক আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি। কারণ, ভোট ঘোষণা হওয়ায় নির্বাচনি বিধি লাগু হয়ে গিয়েছিল। ভোট মেটার পর প্রকল্প নিয়ে অনেকেই উদ্বেগে ছিলেন। বৃহস্পতিবার তা নিয়ে ‘বর্তমান’-এ খবরও প্রকাশিত হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকালেই দপ্তরের অভ্যন্তরীণ গ্রুপে এই প্রকল্প ‘কন্টিনিউ’ করার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে অন্যান্য প্রকল্পের মতো এক্ষেত্রেও অনুদান বাড়বে কি না, সে ব্যাপারে কোনো নির্দেশ আসেনি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ