


সংবাদদাতা, ঘাটাল: ঘাটাল শহরে হনুমানের কামড়ে স্কুলছাত্র-সহ একাধিক ব্যক্তি জখম হয়েছে। ঘাটাল শহরের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড জুড়ে এখন কার্যত ত্রাসের রাজত্ব চালাচ্ছে একটি হনুমান। রবিবার বিকেলে ওই হনুমানটির অতর্কিত আক্রমণে গুরুতর জখম হয়েছে পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্র। তার শরীরের ক্ষত এতটাই গভীর যে দেখে শিউরে উঠছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। আক্রান্ত ওই বালকের নাম রাজদীপ মান্না। সে ঘাটাল যোগদা সৎসঙ্গ হাইস্কুলের ছাত্র। ঘাটাল মহকুমা সোশ্যাল ফরেস্ট্রির রেঞ্জ অফিসার রতন সরকার পরিস্থিতির কথা স্বীকার করে জানিয়েছেন, ‘একটি পাগলা বীর হনুমান এই তাণ্ডব চালাচ্ছে। খবর পাওয়ার পরেই রবিবার বনকর্মীদের পাঠানো হয়েছিল, কিন্তু সেটিকে ধরা সম্ভব হয়নি। সোমবারও সারাদিন ধরার চেষ্টা চালানো হয়েছে। ধরা পড়লে হনুমানটিকে গভীর জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।’ পারিবারিক সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার বিকেলে বাড়ির সামনে খেলার সময় আচমকাই হনুমানটি তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। রাজদীপের হাত ও পা কামড়ে ক্ষতবিক্ষত করে দেয় পশুটি। রক্তাক্ত অবস্থায় সে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। স্থানীয় শিক্ষক জগদীশ শাসমল, সন্দীপ রায় প্রমুখ বলেন, হনুমানটি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেছে। শুধু রাজদীপ নয়, মানুষের শরীর থেকে মাংস খুবলে নিচ্ছে।শহরের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারা এই ধারাবাহিক তাণ্ডবে রীতিমতো আতঙ্কিত। স্থানীয়দের অভিযোগ, গত কয়েক দিনে অন্তত সাত জন এই হনুমানের আক্রমণে জখম হয়েছেন। পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে দোকানদার, কেউই নিরাপদ নন। আতঙ্কে অভিভাবকরা সন্তানদের বাড়ির বাইরে বের করতে সাহস পাচ্ছেন না। সোমবারও দিনভর বনকর্মীরা জাল ও খাঁচা নিয়ে হনুমানটিকে পাকড়াও করার চেষ্টা চালালেও শেষ পর্যন্ত সেটি ধরা দেয়নি। পুর এলাকায় এমন বন্যপ্রাণীর তাণ্ডবে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বনদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হনুমানটিকে চিহ্নিত করা গিয়েছে এবং সেটিকে বন্দি না করা পর্যন্ত অভিযান জারি থাকবে। প্রশাসনের আশ্বাসেও অবশ্য স্বস্তি ফিরছে না ঘাটালের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলিতে।