এসসি দিল্লি- ১ : মোহন বাগান-২
(হামতে) (লি, মিগুয়েল)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দশ মিনিটের স্পেলে জ্বলে উঠলেন মিগুয়েল। তাতেই উতরে গেল মোহন বাগান। অ্যাওয়ে ম্যাচে স্পোর্টিং দিল্লির বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয়। তবে তিন পয়েন্ট পেলেও পানোস ব্রিগেডের পারফরম্যান্স চিন্তা বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট। পাশাপাশি মেহতাব সিংয়ের ট্যাকলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় মিগুয়েলকে। নিজের দলের ফুটবলারকে ফাউল করার ঘটনায় মনে করাল ডার্বির স্মৃতি। ইস্ট বেঙ্গলের শৌমিক দে’কে ট্যাকল করে হলুদ কার্ডও দেখেছিলেন লাল-হলুদেরই মেহরাজউদ্দিন ওয়াডু।
আইএসএলে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নর্থ ইস্টের কাছে হেরেছিল মোহন বাগান। হাল ফেরাতে এদিন শুরু থেকেই মিগুয়েলকে খেলান পানোস। তবে প্রথমার্ধের মোহন বাগান একেবারেই বিবর্ণ। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে চষে বেড়াল দিল্লিই। ৬ মিনিটে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রড্রিগুইনহোর জোরালো শট বাইরে যায়। ১৮ মিনিটে মনোজ মহম্মদের লং পাস খুঁজে নেয় হামতেকে। এক্ষেত্রে সুবিধাজনক জায়গায় পেয়েও লক্ষ্যভেদে ব্যর্থ তিনি। তবে পাঁচ মিনিট পর আর ভুল করেননি তিনি। অফসাইড ট্র্যাপ করতে গিয়ে টাইমিংয়ে ভুল করল মোহন বাগান রক্ষণ। রাহুল ভেকে, আলবার্তোদের টপকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান সেই হামতে (১-০)। তড়িঘড়ি এগিয়ে এসেও বিপদ সামলাতে পারেননি বিশাল। মোহন বাগান কিছুটা গা ঝাড়া দেয় বিরতির আগে। আরউইনের মাইনাসে পৌঁছতেই পারলেন না অনিরুদ্ধ থাপা। এছাড়া লি আরউইনের ভলিও বাইরে যায়। হতাশায় হাত ছুড়তে দেখা যায় গ্রিক কোচ পানোসকে।
পালতোলা নৌকা ম্যাচে ফিরল বিরতির পর। ৫০ মিনিটে অনিরুদ্ধ থাপার বাঁ পায়ের শট বাইরে যায়। এর মিনিট পাঁচেক পরেই ১-১। এক্ষেত্রে মিগুয়েলের পাস ধরে চমৎকার মাইনাস করেছিলেন অনিরুদ্ধ থাপাই। এরপর রাহলে ভেকের টোকা জালে জড়াতে ভুল হয়নি অরক্ষিত আরউইনের। ৬০ মিনিটে দিনের সেরা মুভ থেকে জাল কাঁপালেন মিগুয়েল। বক্সের গোড়ায় ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারকে পাস বাড়িয়েছিলেন আপুইয়া। গোললাইন ছেড়ে প্রতিপক্ষ গোলকিপার কয়েক পা এগিয়ে তা চকিতে দেখে নেন মিগুয়েল। বাঁ পায়ের ইনসাইড প্লেসিং সেকেন্ড পোস্ট দিয়ে জালে আছড়ে পড়ে (২-১)। এরপর মেহতাবের ট্যাকল মিগুয়েলকে মাঠের বাইরে পাঠায়! শেষদিকে মনবীরের পাস পায়ে জমাতে পারলেন না সাহাল। অন্যথায় ব্যবধান বাড়তে পারত। আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়াতে লিস্টনকেও নামিয়েছিলেন মোহন বাগান কোচ। আত্মবিশ্বাস শূন্য। লিস্টনের যা অবস্থা তাতে ডাগ-আউটেও জায়গা পাওয়া মুশকিল। এমনটা চললে মোহন বাগানে এটাই শেষ মরশুম হতে চলেছে গোয়ানিজ উইঙ্গারের।
মোহন বাগান: বিশাল, মেহতাব, রাহুল, আলবার্তো, অভিষেক, আপুইয়া, মিগুয়েল (লিস্টন), অনিরুদ্ধ (মনবীর), ড্র্যাজিচ (সাহাল), ছাংতে (শুভাশিস) ও আরউইন (জেলকোভিচ)।



