এডুয়ার্ডো: কলকাতা কেমন আছে? আমার প্রিয় মোহন বাগান? সবুজ-মেরুন তাঁবু, লন, সমর্থকদের ম্যাচ জেতার আবদার— ভুলিনি কিছুই। ব্রাজিলে বসেও ভারতীয় ফুটবলের খবর রাখার চেষ্টা করি। মোহন বাগানের ম্যাচ থাকলে তো কথাই নেই। ইন্টারনেটের উপর ভরসা করতে হয়। কয়েকদিন আগে ডুরান্ড কাপ ফাইনালে লিস্টনদের হার দেখে কষ্ট পেয়েছি খুব। রাত পোহালেই আইএফএ শিল্ড ফাইনাল। আশা করব, এবার পাশার দান উলটে দেবে মোহন বাগান। এই ম্যাচটাই টার্নিং পয়েন্ট হতে পারে পানোসের দলের কাছে।
দুর্গাপুজো বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব। সেই উপলক্ষ্যে মজার ঘটনাও প্রচুর। একবার ফটোশ্যুটের জন্য ধুতি, পাঞ্জাবি নিয়ে উপস্থিত এক শুভানুধ্যায়ী। ব্যক্তিগত অ্যালবামে সেই ছবি যত্নে সাজিয়ে রেখেছি। যাই হোক, ২২ বছর আগের সেই ম্যাচের কথায় আসি। ২০০৪ সালের আইএফএ শিল্ড। সেবার সেমি-ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল কলকাতার দুই প্রধান। নির্ধারিত সময়ে ১-১ গোলে শেষ হয় ম্যাচ। মোহন বাগানের গোলদাতা বেটো। অন্যদিকে, ইস্ট বেঙ্গলের হয়ে লক্ষ্যভেদ করেছিল টুলুঙ্গা। যাই হোক, অতিরিক্ত সময়ের পর ম্যাচ গড়ায় টাই-ব্রেকারে। শেষপর্যন্ত সাডেন ডেথে জিতে ফাইনালে পৌঁছেছিলাম আমরা। সেদিন টেনশনে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে প্রভু যীশুকে স্মরণ করে টাই-ব্রেকারে শট নিতে যাই। আজও প্রতিটা মুহূর্ত ছবির মতো মনে পড়ে। কলকাতা মানেই তো এমন উন্মাদনা। সেবার পুজোর আগে মোহন বাগান সমর্থকরা প্রচুর আনন্দ পেয়েছিলেন। যাই হোক, সামনেই আরো একটা বড়ো ম্যাচ। এবারের মোহন বাগানে প্রচুর তারকা ফুটবলার। টিম ম্যানেজমেন্ট দারুণ দল গড়েছে। ব্রাজিলিয়ান মিগুয়েল সত্যিকারের ম্যাচ উইনার। আত্মবিশ্বাস পেয়ে গেলে এই দলকে হারানো কঠিন। একটা স্পার্ক প্রয়োজন। আমার বিশ্বাস, আইএফএ শিল্ড ফাইনালেই ঘুরে দাঁড়াবে মোহন বাগান। ঘরোয়া লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ঐতিহ্যশালী ক্লাব। আইএসএল শুরুর আগে শিল্ড পেলে বাকি মরশুমেও মোহন বাগানের বিজয়রথ ছুটবে।



