নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শিল্ড ধরে রাখার লক্ষ্যে রবিবার শেষ চারের ম্যাচে নামছে মোহন বাগান। কিশোর ভারতী স্টেডিয়ামে তাদের প্রতিপক্ষ পাঞ্জাব এফসি। গ্রুপ পর্বে দু’টি ম্যাচ জিতে তারাও পৌঁছেছে সেমি-ফাইনালে। ফলে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের সামনে কঠিন লড়াই। এমন পরিস্থিতিতে চোটের কারণে ম্যাকলারেনকে পাচ্ছেন না কোচ পানোস। ম্যাকার পরিবর্তে লি আরউইন মাঠে নামার জন্য তৈরি। উল্লেখ্য, গত ম্যাচে লক্ষ্যভেদেও সফল হয়েছিলেন তিনি। তাই যে কোনো মূল্যেই জিততে মরিয়া সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। শনিবার বিকালে কিশোর ভারতীতে অনুশীলনের সময় ফুটবলারদের ভুলত্রুটি শুধরে দেওয়ার পাশাপাশি মূল্যবান লাস্ট মিনিট সাজেশনও দিতে দেখা গেল পালতোলা নৌকার সারথিকে।
চলতি মরশুমে পাঞ্জাব এফসি থেকেই মোহন বাগানের দায়িত্ব নিয়েছিলেন পানোস। তাই বাড়তি চাপ রয়েছে তাঁর উপর। সেই সঙ্গে গ্রিক কোচের মাথায় ঘুরছে আরও অনেক অঙ্ক। ১২ অক্টোবর নর্থ ইস্ট ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে অ্যাওয়ে ম্যাচ দিয়ে আইএসএল অভিযান শুরু করবে মোহন বাগান। তার প্রস্তুতি মঞ্চ হিসেবে শিল্ডের বাকি ম্যাচগুলিকে বেছে নিয়েছে ম্যানেজমেন্ট। তাই মেগা আসরে নামার আগে কম্বিনেশন তৈরি রাখার দায়িত্ব পানোসের কাঁধে। সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের রিজার্ভ বেঞ্চ খাতায়-কলমে যথেষ্ট শক্তিশালী। ম্যাকা ছাড়া বাকি সব বিদেশি ফুটবলার ফিট। তাই প্রথম একাদশ বাছতে বেশ কালঘাম ঝরছে গ্রিক কোচের। রক্ষণ জমাট রেখে প্রতি-আক্রমণে খুব দ্রুত উঠে আসে পাঞ্জাবের দলটি। মূলত উইং প্লে’তেই ঝড় তোলে তারা। তাই আক্রমণের পাশাপাশি ডিফেন্স জমাট রাখার দিকেও বাড়তি নজর দিয়েছেন পানোস। চলতি মরশুমে তিন ব্যাক সিস্টেমে দলকে খেলাচ্ছেন গ্রিক কোচ। তাঁদের সামনে দু’জন ডিফেন্সিভ মিডিও। এই ম্যাচে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব থাকবে মিগুয়েলের উপর। ব্রাজিলিয়ান মিডিও বল হোল্ড করে খেলতে পারেন। বাঁ পায়ের আউটস্টেপ যেন কথা বলে। তাঁর ২০-২৫ গজের একটা থ্রু ম্যাচের রং মুহূর্তে বদলে দিতে পারে।
অন্যদিকে, কলকাতা কাস্টমসকে গোলের মালা পরিয়ে টুর্নামেন্টে শুরু করেছিল পাঞ্জাব। গত ম্যাচে ইস্ট বেঙ্গলকে তাদের ঘরের মাঠেই বশ মানায় পাঞ্জাব। এবার সামনে মোহন বাগান। ম্যাচ জিতলে শুধু যে ফাইনালে উঠবে দল, তা নয়। ময়দানের দুই প্রধানকে তাদের ঘরের মাঠে হারানোর কৃতিত্বও যুক্ত হবে পাঞ্জাবের সামনে।