Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

মুখ থুবড়ে মোদির সাধের বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্প

প্রতিশ্রুতি ছিল, মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য মিশন মোড মেকানিজম আনবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সহজেই শিক্ষাঋণ পাবেন দেশের ৮৬০টি সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী।

মুখ থুবড়ে মোদির সাধের বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্প
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:০৪
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: প্রতিশ্রুতি ছিল, মেধাবী পড়ুয়াদের জন্য মিশন মোড মেকানিজম আনবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সহজেই শিক্ষাঋণ পাবেন দেশের ৮৬০টি সেরা উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২২ লক্ষ ছাত্রছাত্রী। কোনও গ্যারান্টার লাগবে না। গালভরা নাম দেওয়া হয়েছিল—প্রধানমন্ত্রী বিদ্যালক্ষ্মী স্কিম। কিন্তু প্রকল্প চালুর পর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও সহজে শিক্ষাঋণ পেয়েছেন ছ’শোরও কম ছাত্রছাত্রী। মোদি সরকারের ঢাক পেটানো প্রচারের বেলুন চুপসে গিয়েছে এই পরিসংখ্যানে। এরপরেই তড়িঘড়ি উদ্যোগী হয় কেন্দ্র। ব্যাঙ্কগুলিকে সতর্কও করা হয়। কিন্তু উল্টে ব্যাঙ্কগুলি জানিয়েছে, গলদ রয়েছে সরকারের পোর্টালেই। তার জেরে শিক্ষাঋণের আবেদনই করতে পারছেন না পড়ুয়ারা। তাতে আরও অস্বস্তিতে ‘ছাত্রদরদী’ সরকার।

Advertisement

এনডিএ সরকার তৃতীয়বার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর, গত বছর জুলাই মাসের বাজেটে ঘোষণা করা হয় প্রকল্পটি। অর্থবরাদ্দও তখনই হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে সেই প্রকল্প চালু হয় নভেম্বর মাসে। পিএম-বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পের নিয়ম হল, সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার শিক্ষাঋণের ৭৫ শতাংশের গ্যারান্টার হবে সরকার।  দেওয়া হয়। আর যাদের পারিবারিক আয় বছরে ৮ লক্ষ টাকার কম, তাদের ১০ লক্ষ টাকা শিক্ষাঋণের ক্ষেত্রে ৩ শতাংশ সুদ সরকার বহন করবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ১৪০ কোটির দেশে যেখানে কোটি কোটি দরিদ্র পড়ুয়া অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালাতে পারছে না, সেখানে মোদি সরকারের এই শিক্ষাঋণ প্রকল্পে পয়লা এপ্রিল পর্যন্ত আবেদন করেছে মাত্র ২ হাজার ৯৬৩ জন পড়ুয়া। আর তার থেকেও বিস্ময়কর হল মাত্র ২০ শতাংশের জন্য ঋণ মঞ্জুর হয়েছে। ৭৬ শতাংশ আবেদনই প্রত্যাখ্যাত।
কেন এই প্রত্যাখ্যান? প্রথম কারণ, আবেদনের জটিলতা। দ্বিতীয় কারণ, আবেদনের প্রযুক্তিগত সমস্যা। কেন সরকারের বিদ্যালক্ষ্মী প্রকল্পের এই হাল? গত মার্চ মাসে দেশের বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির কাছে এই প্রশ্নের উত্তর জানতে চেয়েছিল অর্থমন্ত্রক এবং শিক্ষামন্ত্রক। জবাবে কমবেশি প্রতিটি সরকারি ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, সরকারের পোর্টালে এই আবেদন করতে হয় এবং তারপর সেটি ব্যাঙ্কের কাছে আসে। সেই পোর্টালের যান্ত্রিক ও প্রযুক্তিগত ত্রুটি সমস্যা সৃষ্টি করছে। সেই কারণে আবেদনের চেষ্টা হয়তো বহু পড়ুয়া করছে। কিন্তু কোনও আবেদন জমা হচ্ছে না। তাই সুযোগ পেলেও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সুরাহা হচ্ছে না পড়ুয়াদের। সুতরাং পাঁচ মাস কেটে গেলেও এই প্রকল্প আদৌ কার্যকর হয়নি, যা নিয়ে টানাপোড়েন চলছে কেন্দ্র এবং ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ