Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তহবিলের ১০০ শতাংশ খরচ করেছেন বিধায়ক সুব্রত মৈত্র

বিধায়ক তহবিলে তিন কোটি ৩০ লক্ষ টাকাই খরচ করেছেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র

তহবিলের ১০০ শতাংশ খরচ করেছেন বিধায়ক সুব্রত মৈত্র
  • ৩১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অভিষেক পাল, বহরমপুর: বিধায়ক তহবিলে তিন কোটি ৩০ লক্ষ টাকাই খরচ করেছেন বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পুরসভা এলাকায় তিনি কী কী কাজ করেছেন সেই তালিকা প্রকাশ করে মানুষের কাছে বিলি করছেন বিদায়ী বিধায়ক। এবারও গেরুয়া শিবির তাঁকে প্রার্থী করেছে এই বিধানসভায়। কাজের নিরিখে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছেন তিনি। তবে পদ্ম শিবিরের নেতাকর্মীরা বিজেপি বিধায়কের কাজ ফলাও করে প্রচার করলেও সাধারণ মানুষ অনেকেরই দাবি, বিধায়কের কাজ সেভাবে চোখে পড়ে না।

Advertisement

বিধায়ক কাজের যে খতিয়ান প্রকাশ করেছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, বহরমপুর পুরসভা এলাকায় তিনি এক কোটি ৩১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা খরচ করেছেন। উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে আছে, আর্সেনিক মুক্ত কয়েকটি পানীয় জল প্রকল্প নির্মাণ। এছাড়া মনীন্দ্রচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ক্লাসরুমকে নবরূপে তৈরি, কয়েকটি বড় কংক্রিটের রাস্তা, কৃষ্ণনাথ কলেজে সাইকেল স্ট্যান্ড, কাশিমবাজারে নতুন টয়লেট, ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে মুক্তমঞ্চ ও এক্স সার্ভিস লিগের অফিসের বাইরের শেড নির্মাণ করেছেন তিনি।  হাতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে খরচের পরিমাণ ৫২ লক্ষ ৯৪ হাজার টাকা। ভাকুড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে তিনি মোট ২৮ লক্ষ ২৭ হাজার টাকা খরচ করেছেন। দৌলতাবাদ গ্রাম পঞ্চায়েতে ১৯ লক্ষ ৩৮ হাজার টাকা খরচ করেছেন। গুরুদাসপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৫ লক্ষ ৫৮ হাজার টাকার কাজ বরাদ্দ করেন এবং কাজ করেছেন। মনীন্দ্রনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে ৮৬ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার কাজ তিনি করেছেন বলে দাবি করেছেন। এই টাকায় তিনি বেশ কয়েকটি কংক্রিটের রাস্তা, এলইডি লাইট এবং পানীয় জল প্রকল্পের কাজ করেছেন। হাতিনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে তিনি এলইডি লাইট এবং সোলার লাইট প্রতিস্থাপনে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করেছেন। এছাড়া বেশ কিছু শ্মশানে বাউন্ডারি ওয়াল করে দিয়েছেন বিধায়ক। মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার নিরিখে এবার তিনি মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করছেন এবং নিজের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। 
সুব্রত মৈত্র বলেন, কোনো উন্নয়নমূলক মিটিংয়ে ডাকা হয়নি আমাকে। মুখ্যমন্ত্রী ডিএমদের পরিষ্কার নির্দেশ দিয়েছিলেন যাতে বিজেপির বিধায়করা কাজ করতে না পারে। শুধুমাত্র বিধায়ক তহবিলের যে টাকা আমি পেয়েছিলাম, বহু বাধা উপেক্ষা করে সেই সমস্ত টাকা আমি খরচ করেছি। রাস্তা, পানীয় জল, আলো, কোথাও ড্রেন, কোথাও স্কুলের উন্নতি প্রকল্পে আমি এই টাকা খরচ করেছি। 
কংগ্রেসের জেলা সভাপতি তথা বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বলেন, বিজেপি বিধায়ক কোনো কাজ করেননি। এই শহর এবং এই বিধানসভার যেটুকু উন্নতি হয়েছে তা আমার সময় হয়েছে। আমাদের নেতা অধীর চৌধুরী সাংসদ তহবিলের টাকায় বহু উন্নয়ন প্রকল্প হয়েছে। এখানে তৃণমূলের পুরসভা এবং বিজেপির বিধায়ক সবাই কাজের নামে লুটেপুটে খেয়েছে। 
জেলা তৃণমূলের সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, বহরমপুর শহরের যেটুকু উন্নয়ন হয়েছে তা বহরমপুর পুরসভা করছে। এতদিন পুরসভা জবরদখল করে রেখেছিল কংগ্রেস। তৃণমূল গত কয়েক বছর ধরে ক্ষমতায় এসে কাজ করে মানুষকে পরিষেবা দিচ্ছে। বিধানসভার পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতেও অধিকাংশ জায়গায় তৃণমূলের বোর্ড আছে। সেখানে ঢালাও উন্নতি হচ্ছে। রাস্তাঘাট, আলো, পানীয় জল সব মুখ্যমন্ত্রীর বিভিন্ন প্রকল্পের হচ্ছে। মানুষ একাধিক সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবা পাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ