টয় ট্রেন, গোরুর গাড়ি বানিয়ে পুরনো শিলিগুড়ি তুলে ধরছে মিত্র সম্মিলনী, ৯৮ বর্ষে মিলনী ক্লাব
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: টয় ট্রেনের পুরনো রুট, হিলকার্ট রোডের অবস্থা কিংবা প্রাচীন শিলিগুড়ির দৃশ্য। এমন একগুচ্ছ প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আসতে হবে শতাব্দী প্রাচীন মিত্র সম্মিলনীর পুজো মণ্ডপে। তারা এবার পুরনো শিলিগুড়ির দৃশ্য তুলে ধরছে। সেই সঙ্গে থাকছে ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন থেকে মিত্র সম্মিলনীর ইতিহাস, গোরুর গাড়ি থেকে প্রাচীন বাস, নাট্য মঞ্চ থেকে নাটকের দৃশ্য। তাদের থিমের নাম— গল্পে গল্পে সেই সকাল বেলা, হিলকার্ট রোডে টয় ট্রেন মণ্ডপে একচালায়। 

Advertisement

অন্যদিকে, সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে কালিম্পং পাহাড়ের ৯৮ বছরের পুরনো পুজো মিলনী ক্লাব। সেইসঙ্গে তারা পর্যটকদের স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। পর্যটকদের জন্য অঞ্জলির ব্যবস্থাও করেছে। খাওয়ানো হবে ভোগ। মেনুতে থাকছে খিচুড়ি, ঘণ্ট, ভাজা, চাটনি, পায়েস। পাহাড়-সমতলের দুই প্রাচীন পুজো কমিটিরই দাবি, পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা ও ভাবনার নিরিখে তাদের পুজোই হবে সেরা। 
শিলিগুড়ি শহরের প্রাচীন ক্লাব মিত্র সম্মিলনী। এবার এই পুজোর ১০০ বছর। শতবর্ষকে স্মরণীয় করে তুলতে থিম হিসাবে পুরনো শিলিগুড়িকে তুলে ধরছে। ক্লাবের নাট্য সম্পাদক অংশুমান ভট্টাচার্য বলেন, ১৯০৭ সালে এখানে জনসংখ্যা ছিল মাত্র তিনহাজার। সেই সময় স্থানীয়রাই গড়ে তোলেন ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন। ১৯০৯ সালে নাম বদলে হয় মিত্র সম্মিলনী। পুজোর সূচনা হয় ১৯২৬ সালে। পুজোর ১০০ বছর পূর্তিতে পুরনো শিলিগুড়ি শহরকে থিম হিসাবে তুলে ধরা হচ্ছে। 
বাঁশ, কাঠ, কাপড়, প্লাস্টার অব প্যারিস প্রভৃতি দিয়ে শিল্পী সন্দীপন নাথ তাঁর ভাবনাকে বাস্তবায়িত করছেন। নাট্য সম্পাদক বলেন, একশো বছর আগে হিলকার্ট রোডে ছিল টয় ট্রেনের লাইন। তখন বাড়িঘরগুলি ছিল কাঠের। এবার পুজোয় তখনকার হিলকার্ট রোড, টয় ট্রেনের লাইন, কাঠের বাড়ি, ক্লাবের প্রাচীন ঘর, নীলনলিনী প্রাথমিক স্কুলের পুরনো ভবন তৈরি করা হয়েছে। গোরুর গাড়ি, সেই সময়কার বাস রয়েছে। মণ্ডপসজ্জার কাজ প্রায় শেষ। শহরের প্রাচীন ইতিহাস বর্তমান প্রজন্মকে জানাতেই এমন প্রয়াস। 
মঙ্গলবার পুজো কমিটি একশো জন বয়স্ক নাগরিককে সংবর্ধনা প্রদান করে। ক্লাবের সম্পাদক সৌরভ ভট্টাচার্য বলেন, পুজোর শতবর্ষ উপলক্ষ্যে মহালয়ায় প্রভাতফেরি, পুস্তিকা প্রকাশ করেছি। এদিন বয়স্কদের সংবর্ধনা দেওয়া হল। পুজোর ক’দিন আরও কিছু কর্মসূচি রয়েছে। 
এদিকে, কালিম্পংয়ের মিলনী ক্লাবের পুজোর এবার ৯৮ বছর। পুজো কমিটির সহ সভাপতি সুব্রত মান্না বলেন, এখানে বাঙালি, বিহারি, নেপালি সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। সম্প্রীতির বার্তা দিতে সকলকে নিয়ে এই পুজো করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে প্রাচীন রীতি মেনে নবমীতে চালকুমড়ো, আখ বলি দেওয়া হবে। এখানে দু’জন পুরোহিত চন্দননগর এবং দু’জন ঢাকি মালদহ থেকে আসছেন। অঞ্জলি দিতে এবং ভোগ খেতে পারবেন পর্যটকরা। • মিত্র সম্মিলনীর প্রতিমা। - নিজস্ব চিত্র।