বেঙ্গালুরু: সদ্য মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন ডি কে শিবকুমার। মসনদে বসার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক যেন তাড়া করে চলেছে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীকে। মন্ত্রিসভা গঠনের কয়েকদিন পরেই সামনে এল দলের অভ্যন্তরে অসন্তোষের ছবি। বুধবার শিবকুমারের সঙ্গে শপথ নেওয়ার পরেও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর না পাওয়ায় শুক্রবার পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করলেন প্রবীণ কংগ্রেস নেতা রামালিঙ্গা রেড্ডি। পাশাপাশি, নতুন ক্যাবিনেটে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব কম থাকায় শিবকুমারকে নিশানা করেছেন বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি নেতা রামাইয়া অশোক। দলের অভ্যন্তরেও এনিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেত্রী মার্গারেট আলভা। যদিও সমালোচনার মুখে ডিকে দাবি করেছেন, ক্যাবিনেটে বহু পদ খালি রয়েছে। ফলে আগামী দিনে সুযোগ মিলবেই।
কী কারণে বিদ্রোহী হয়ে পদত্যাগ করলেন রামালিঙ্গা? জানা গিয়েছে, বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দপ্তর না পাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ হয়েই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রেড্ডি। তিনি বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের আগে ডি কে শিবকুমার আমার বাড়িতে এসেছিলেন। তিনি জানান, আমাকে বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দপ্তর দেওয়া হবে। আমি নিজে থেকে কোনো দপ্তর দাবি করিনি। উনি নিজেই তা বলেছিলেন। একবার নয়, দু’বার সেকথা নিজেই জানিয়েছিলেন। আমি তাতে সম্মত হয়েছিলাম। পরে আমাকে সেচদপ্তর দেওয়া হয়। আমি ওই দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নই। সেই কারণেই পদত্যাগ করেছি। এখন আমাকে বেঙ্গালুরু ডেভেলপমেন্ট দপ্তর দেওয়া হলেও আমি তা গ্রহণ করব না। আমি কংগ্রেসের সঙ্গেই আছি। বিধায়ক হিসাবে মানুষের জন্য কাজ করব।’ এর পরেই দলও সরকারের অন্দরে জল্পনা শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে আসরে নামেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। বিষয়টি মিটিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়ে শিবকুমার বলেন, ‘রামালিঙ্গা রেড্ডি আমাদের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু। আমরা বিষয়টি মিটিয়ে নেব।’
গত বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে শপথ নিয়েছিলেন আরও ১৩ জন মন্ত্রী। হিসাব অনুযায়ী, মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ৩৪ জন সদস্য থাকতে পারেন। তারপরেও নতুন ক্যাবিনেটে মহিলাদের প্রতিনিধিত্ব না থাকায় সরব হয়েছে বিজেপি। এর পরেই বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন শিবকুমার। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, ‘বিজেপি অপেক্ষা করুক। অনেক পদ ফাঁকা রয়েছে। গতবারও প্রথম দফায় মন্ত্রিসভায় কোনো মহিলা সদস্য ছিলেন না।’