Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের রোপণ করা আমগাছ বাঁচাতে লড়াই মন্ত্রী কল্যাণের

‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।—ঠাকুর রামকৃষ্ণের আদর্শ পাথেয় করে প্রাণীকূল ও উদ্ভিদকূলের মধ্যে ঈশ্বর খুঁজে বেড়িয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ।

কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণের রোপণ করা আমগাছ বাঁচাতে লড়াই মন্ত্রী কল্যাণের
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুমন তেওয়ারি, আসানসোল: ‘জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।—ঠাকুর রামকৃষ্ণের আদর্শ পাথেয় করে প্রাণীকূল ও উদ্ভিদকূলের মধ্যে ঈশ্বর খুঁজে বেড়িয়েছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। ঠাকুরও জীবনের শেষদিন পর্যন্ত সবুজ-অন্ত প্রাণ ছিলেন। যেখানেই তিনি গিয়েছেন সেখানেই রোপণ করেছেন গাছ। কামারপুকুরেও অবস্থানকালে বহু চারগাছ লাগিয়েছিলেন। সময়ের গর্ভে তলিয়ে গিয়েছেন সেগুলি। শুধু একটি আমগাছ মহীরূহ হয়ে দাঁড়িয়ে এখনও। গাছটির বয়স এখন ১৮০ বছর। বয়সের ভারে সে অতি বৃদ্ধ। আর তাকে বাঁচিয়ে রাখতে লড়াই চালাচ্ছেন রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের কৃতী ডঃ কল্যাণ চক্রবর্তী। তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে আদর্শ মানেন রামকৃষ্ণ-স্বামীজিকে। কল্যাণবাবু খ্যাতনামা উদ্ভিদ বিজ্ঞানী। বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা, বিজ্ঞান সাধনায় জীবন উৎসর্গ করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি রাজ্যের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং খাদ্যসংরক্ষণ ও হর্টিকালচার দপ্তরের মন্ত্রী। পাশাপাশি, ইনফর্মেশন টেকনোলজি ও ইলেকট্রনিক্স দপ্তরও তাঁর অধীনে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও তিনি কামারপুকুরে শ্রীরামকৃষ্ণ রোপিত ওই আমগাছ পরিচর্যার কথা ভোলেননি। লড়াই শুরু করেছেন সেই ২০১৯ সাল থেকে। আমগাছটির দীর্ঘায়ু কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা করেছেন। সেই মতো পরিচর্যাও করে আসছেন আজও। মন্ত্রী হওয়ার পরও বারবার ছুটে গিয়েছেন কামারপুকুরে।    

Advertisement

শুক্রবার কল্যাণবাবু আসানসোলে এসে বলছিলেন, ‘কামারপুকুরের ওই আমগাছটি বাঁচিয়ে রাখার মধ্যে আমরা একটি বার্তা দিতে চাই। শ্রীরামকৃষ্ণদেব গাছটি শুধু লাগিয়ে থেমে থাকেননি, রীতিমতো পরিচর্যা করে বড় করে তুলেছিলেন। আমি তাঁকে রক্ষা করার দায়িত্ব পেয়ে ধন্য। এভাবে প্রতিটি গাছকে লাগালেই হবে না রক্ষা করতে হবে। বনমহোৎসবে একশোটি গাছ লাগালে ৯৫টি মারা যায়। প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী মায়ের নামে গাছ লাগাতে বলে সেই পরিচর্যার বার্তাটি দিচ্ছেন।’ 
শ্রীরামকৃষ্ণদেবের বাল্য঩লিলার একটি বড় অধ্যায় রচিত হয়েছে মানিক রাজার আমবাগানে। সেই বাগানকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির বিকাশও ঘটিয়েছেন কল্যাণবাবু। তিনি বলছিলেন, ‘আমরা আধুনিক পদ্ধতিতে কম দূরত্বে নানা প্রজাতির আমগাছ লাগিয়েছি বাগানে। আমগাছের নিচে সব্জি চাষ করাচ্ছি। বাগানটি পরিদর্শন করলে চাষিরা বুঝতে পারবেন, একটি বাগান থেকে কীভাবে বহুমুখী পথে বিপুল আয় করা সম্ভব।’ তিনি বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চার উপরও জোর দিয়েছেন। মন্ত্রী জানিয়েছেন, এরজন্য তাঁর দপ্তর একটি রোড ম্যাপ তৈরি করছে। 
এদিন আসানসোল রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের অডিটোরিয়ামে আইটিআইয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে হাজির হয়েছিলেন কল্যাণবাবু। সেখা঩঩নেই তাঁর পরিচয় করাতে গিয়ে ঠাকুরের রোপিত আমগাছ সংরক্ষণের প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন মিশনের সম্পাদক স্বামী সৌমাত্মানন্দ। একই সঙ্গে কামারপুরে প্রায় নষ্ট হয়ে যাওয়া বাগান সাজিয়ে তোলার কথাও জানান। এদিন মন্ত্রী আসানসোল গার্লস কলেজে এসে নিবেদিতা ভবনের উদ্বোধন করেন। তিনি অধ্যক্ষ স্বাতী নন্দী চক্রবর্তীকে আশ্বাস দিয়েছেন, কলেজে ফার্ণ পার্ক ও কনটেন্ট ক্রিয়েটিভ ল্যাবরেটরি করতে চাইলে তাঁর দপ্তর সাহায্য করবে। শেষে মন্ত্রী আসানসোল সার্কিট হাউসে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প ও উদ্যানপালন বিভাগের একদিবসীয় কৃষক প্রশিক্ষণ শিবিরে যোগদান করেন। সেখানে উদ্যানপালন কীভাবে লাভজনক হবে, তা নিয়ে নানা পরামর্শ দেন। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ