


অগ্নিভ ভৌমিক, কৃষ্ণনগর: কৃষ্ণনগরের রথতলায় আর দেখা মেলে না অগ্রদ্বীপের গোপীনাথের। একসময় এই রথযাত্রায় জগন্নাথদেবের সঙ্গে সুসজ্জিত গোপীনাথের বিগ্রহ দেখা যেত। এখন গোপীনাথের একটি ছবি নিয়েই রথযাত্রা হয়। তবু কৃষ্ণনগরবাসী এখনও সেসব দিন ভুলতে পারেননি, যখন অগ্রদ্বীপ থেকে জলঙ্গির বুকে নৌকাবাইচ করে কৃষ্ণনগরে আসতেন গোপীনাথ।
একসময় এই রথ কৃষ্ণনগর রাজবাড়িতে রাখা হতো। পরবর্তীকালে রথটি মল্লিকপাড়া এলাকায় স্থানান্তরিত করা হয়। সেকারণেই ওই এলাকার নাম হয় রথতলা। প্রতিবছরই সাড়ম্বরে রথযাত্রা উৎসব হয়। শহরের মানুষ তাতে মেতে ওঠেন। তবে অনেকেই পুরনো কিছু ছবি দেখে ও কাহিনি শুনে এখনও সেই দৃশ্য কল্পনা করেন-জলঙ্গি পার করে নিয়ে আসা হচ্ছে গোপীনাথকে। শহরজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ভক্তদের আনন্দোল্লাস।
জানা গিয়েছে, শ্রীচৈতন্যদেবের আদেশে গোবিন্দ ঘোষ অগ্রদ্বীপে গোপীনাথের বিগ্রহ গড়ে তুলেছিলেন। ষোড়শ শতকের শেষদিকে সেই মূর্তি চুরি হয়ে যায়। পরে, সপ্তদশ শতকের দ্বিতীয় দশকে বর্ধমান জেলার পাটুলির জমিদার সেই মূর্তি উদ্ধার করেন। তখন থেকে বিগ্রহ সুরক্ষার জন্য তাঁর বাড়িতেই রাখা হয়। তবে চৈত্র মাসে গোপীনাথের বাৎসরিক মেলায় গোপীনাথকে অগ্রদ্বীপে ফিরিয়ে আনা হতো। একবার সেই মেলার সময় দুর্ঘটনা ঘটে। এরপর নবাব মুর্শিদকুলি খান গোপীনাথের দায়িত্ব দেন নদীয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের পিতা রঘুরামের হাতে। তারপর থেকেই গোপীনাথের নিরাপত্তা ও পূজার দায়িত্ব নদীয়ার রাজপরিবারের কাছে চলে যায়। তখন থেকেই রথযাত্রায় গোপীনাথের কৃষ্ণনগর আগমন শুরু হয়। বছরের বেশিরভাগ সময় গোপীনাথ কৃষ্ণনগরের রাজবাড়িতে থাকতেন। দুর্গাপুজোর পর যেতেন অগ্রদ্বীপে। চৈত্রের মেলা শেষে আবার গোপীনাথকে কৃষ্ণনগরে ফেরানো হতো। তখন থেকেই রথযাত্রায় জগন্নাথদেবের পাশে থাকতেন গোপীনাথ।
তবে এখন সেই প্রথা বিলুপ্ত। এখন আর অগ্রদ্বীপ থেকে আসেন না গোপীনাথ। রথে শুধু তাঁর ছবি থাকে। কৃষ্ণনগরের ইতিহাস গবেষক সুপ্রতিম কর্মকার বলেন, প্রাচীনত্বের দিক থেকে রথতলার রথযাত্রাই আমাদের শহরে সবচেয়ে পুরনো। এখানে গোপীনাথকে কোলে করে রথে তোলার রীতি ছিল। গোপীনাথকে ৫৬রকমের ভোগ দেওয়া হতো। সেই দিন ভোলার নয়।