Bartaman Logo
২৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উড়ো ফোনে ফিরল দুর্যোগের স্মৃতি রাতভর আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ল বহু পরিবার

গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সেই ক্ষত এখনও শুকোয়নি নাগরাকাটা ব্লকের বামনডাঙা তন্ডুর মডেল ভিলেজের বাসিন্দাদের। ওই বিপর্যয়ে জলঢাকা নদীর জল মডেল ভিলেজে ঢুকে প্রাণ গিয়েছিল ১১ জন মানুষের।

উড়ো ফোনে ফিরল দুর্যোগের স্মৃতি রাতভর আতঙ্কে গ্রাম ছাড়ল বহু পরিবার
  • ৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: গত বছরের ৫ অক্টোবর প্রাকৃতিক দুর্যোগের সেই ক্ষত এখনও শুকোয়নি নাগরাকাটা ব্লকের বামনডাঙা তন্ডুর মডেল ভিলেজের বাসিন্দাদের। ওই বিপর্যয়ে জলঢাকা নদীর জল মডেল ভিলেজে ঢুকে প্রাণ গিয়েছিল ১১ জন মানুষের। বহু গবাদি পশু, বাড়িঘর, আসবাবপত্র ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। শনিবার রাতের বৃষ্টির সময় কে বা কারা মডেল ভিলেজের বাসিন্দাদের ফোন করে জানান জলঢাকা নদীর জলস্তর বাড়ছে। আর এই খবর পেয়ে রাত ১২টা নাগাদ আতঙ্কে একাংশ বাসিন্দা প্রাণ বাঁচাতে পরিবার নিয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যান। যদিও নদীর জল শনিবার রাতে বাড়েনি। কিন্তু ভুয়ো খবরে ব্যাপক হয়রানির শিকার হন মডেল ভিলেজের বাসিন্দারা। 

Advertisement

নতুন করে যাতে সেরকম পরিস্থিতি না হয় তারজন্য বিপর্যয়ের পর বালির বস্তা দিয়ে বাঁধ বানিয়ে দেওয়া হয়েছিল। গত ক’দিনের বৃষ্টিতে সেই বাঁধে রেইন কাট হয়েছে। বালির বাঁধ কার্যত ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছে। এখানেই শেষ নয়, বামনডাঙা চা বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনের দিকে জলঢাকা নদীখাত বালি-নুড়িতে ভরাট হয়ে বাগানের উচ্চতার সমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই আসন্ন বর্ষায় নদীর জলস্ফীতিতে ফের এক ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রহর গুনছেন মডেল ভিলেজের বাসিন্দারা। শনিবারের সেই উড়ো ফোনে কোনোরকম ঝুঁকি না না নিয়ে লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়েছিলেন। 
জলপাইগুড়ি শহর থেকে মডেল ভিলেজের দূরত্ব প্রায় ৬২ কিমি। ৫ অক্টোবর ভুটানের ভারী বৃষ্টি, স্থানীয় বৃষ্টির ফলে জলঢাকা সহ অন্য ঝোড়া, নালার জলস্ফীতিতে মডেল ভিলেজে প্লাবন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তারপর তৈরি করা বালির বাঁধ গত ছ’মাসেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মডেল ভিলেজের বাসিন্দা বিষ্ণু ওরাওঁ, মনোজ তিরকির আশঙ্কা, বর্ষার আগে রেইন কাট ঠিক না হলে এবারও বানভাসি হতে হবে। 
গত শুক্রবার থেকে ডুয়ার্সে বৃষ্টি শুরু হয়। চলে শনিবার রাত পর্যন্ত। ফলে মাল মহকুমা পুলিশ প্রশাসন ডুয়ার্সের নদীতে নামতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে শনিবার বিকেলে। এরই মধ্যে শনিবার রাত ১১টা নাগাদ নাগরাকাটা থেকে কে বা কারা মডেল ভিলেজের বাসিন্দাদের ফোন করে খবর দেন জলঢাকা নদীর জল বেড়েছে। সকলে পালান। তাই কিছু না ভেবে প্রাণ বাঁচাতে পরিবার নিয়ে যে যেখানে পেরেছেন চলে যান, বলে জানান বসন্ত সাউ।
মনোজ খেড়িয়া, বাবলু সাউ বলেন, ভোরে বুঝতে পারি নদীর জলস্তর বাড়েনি। তাই রবিবার ভোরে মডেল ভিলেজে ফিরে আসি। কিন্তু এদিন না হয় জল বাড়েনি, কিন্তু সামনের বর্ষায় বালির ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ ঠিক করা না হলে জল গ্রামে ঢুকবেই। এমনকী বাগানের ২৬ নম্বর সেকশনেও নদীখাত বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। এই আতঙ্কের পাশাপাশি হাতির হানার ভয় থাকে সারা বছরই। কারণ পাশেই গোরুমারার জঙ্গল। 
সেচদপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগের চিফ ইঞ্জিনিয়ার কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক বলেন, রেইন কাটের ব্যাপারে খবর পেয়েছি। এখন নির্বাচনি বিধি লাগু আছে। বিধি উঠলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব। • বাঁধে রেইন কাট।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ