Bartaman Logo
২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডি-ফার্ম ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় গণ টোকাটুকি, শাস্তির কোপে পরীক্ষার্থীরা

পরীক্ষার্থীদের একটা অংশ বাথরুমকে টুকলির সাপ্লাই লাইন হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতর কয়েকজনের কাছ থেকে টুকলি উদ্ধার হয়।

ডি-ফার্ম ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষায় গণ টোকাটুকি, শাস্তির কোপে পরীক্ষার্থীরা
  • ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: কোলাঘাট গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজে ডিপ্লোমা ইন ফার্মাসি কোর্সের ফাইনাল ইয়ারের পরীক্ষা নিয়ে হইচই শুরু হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার থেকে কোলাঘাটের ওই কলেজে মোট চারটি প্রাইভেট ফার্মাসি কলেজের পড়ুয়াদের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে ঝামেলা কেন্দ্রস্থল ওই পরীক্ষাকেন্দ্র।

Advertisement

পরীক্ষার্থীদের একটা অংশ বাথরুমকে টুকলির সাপ্লাই লাইন হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ। পরীক্ষা কেন্দ্রের ভিতর কয়েকজনের কাছ থেকে টুকলি উদ্ধার হয়। তাছাড়া, সিসি ক্যামেরায় নজরদারিতেও টুকলির সরবরাহ ও ব্যবহারের বিষয়টি কলেজ কর্তৃপক্ষ জানতে পারে। এই অবস্থায় বেশ কয়েকজন পরীক্ষার্থীকে আরএ(রিপোর্টেড এগেইনেস্ট) করা হয়েছে। সেইসঙ্গে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টে পর্যন্ত পরীক্ষা চলাকালীন কোনও পরীক্ষার্থী বাথরুমে যেতে পারবেন না বলে ফতোয়া জারি করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এর ফলে মহিলা পরীক্ষার্থীরা বিরাট সমস্যায় পড়েছেন। বহু পরীক্ষার্থী মাঝপথে পরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছেন বলে প্রাইভেট ফার্মাসি কলেজগুলির দাবি।
কোলাঘাট গভর্নমেন্ট পলিটেকনিক কলেজের প্রিন্সিপাল সৌমেন সাহা বলেন, কয়েকজন পরীক্ষার্থী অসাধু উপায় অবলম্বন করছিল। তাদের আরএ করা হয়েছে। বাথরুমে গিয়ে টুকলির সাহায্য নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসায় সকল পরীক্ষার্থীর জন্য পরীক্ষা চলাকালীন বাথরুমে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, দু’বছরের ডিপ্লোমা ইন ফার্মাসি কোর্সের ফাইনাল পরীক্ষা ২১সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়নার অন্নপূর্ণা, পাঁশকুড়ার দু’টি এবং মহিষাদলের গাড়ুঘাটার আরও একটি প্রাইভেট ফার্মাসি কলেজের সেন্টার পড়েছে কোলাঘাটের ওই সরকারি কলেজে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত পরীক্ষা চলছে। এপর্যন্ত চারটি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার থেকেই টুকলি নিয়ে উত্তাল হয় ক্যাম্পাস। অভিযোগ, বাথরুম থেকে টুকলির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ পরীক্ষার হলের ভিতর টুকলি সহ ধরা পড়েছেন। এনিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়। সেইসঙ্গে পরীক্ষা চলাকালীন বাথরুমে যাওয়াও নিষিদ্ধ করা হয়। এই অবস্থায় অনেক পরীক্ষার্থী মাঝপথে পরীক্ষা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। 
ময়না রামকৃষ্ণ শিক্ষায়তনের সেক্রেটারি বিদ্যুৎ মাইতি বলেন, আমাদের কলেজের মোট ৬১জন পরীক্ষার্থী সোমবার পরীক্ষায় বসে। মঙ্গলবার থেকে সেন্টার কর্তৃপক্ষ যে কায়দায় পরীক্ষায় আয়োজন করছে তাতে অধিকাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে না। শুক্রবার মাত্র ১৪জন পরীক্ষা দিয়েছে। আমরা প্রাইভেট কলেজ চালাই বলে আমাদের সঙ্গে কুকুর ছাগলের মতো আচরণ করা হয়। পরীক্ষার্থীরাও তার শিকার হচ্ছে। জানি না, এই অবস্থার পরিবর্তন কবে ঘটবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পরীক্ষার্থী বলেন, অধিকাংশই মহিলা পরীক্ষার্থী। দুপুর ১২টায় পরীক্ষা শুরু হলেও তার আগে থেকেই আমাদের সেন্টারে পৌঁছে যেতে হচ্ছে। পরীক্ষা চলাকালীন বাথরুমে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। সর্বভারতীয় নিট থেকে জেইই পরীক্ষাতেও এরকমটা হয় না। কলেজ কর্তৃপক্ষ টুকলি আটকানোর নামে যা করছে, তাতে সকল পরীক্ষার্থীর সমস্যা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ