নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পুজোর আর মাত্র কয়েকদিন বাকি। আকাশে-বাতাসে এখন আক্ষরিক অর্থেই উৎসবের মেজাজ। বীরভূম জেলাজুড়েই শারদীয়া উৎসবের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। চলছে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। গত সপ্তাহে বাজারে ভিড় চোখে না পড়লেও অক্টোবরের প্রথম রবিবার বাজারে ক্রেতারা ভিড় জমালেন। তবে শপিং মল ও বড় বিপণিগুলিতে ব্যাপক ভিড় দেখা গেল। সাধারণ সাবেকি কাপড়ের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের দেখা যাচ্ছে। আগামী কয়েকদিনে বাজার পুরোপুরি জমে উঠবে বলে আশাবাদী জেলার ব্যবসায়ী মহল।
জেলা সদর সিউড়ির চিত্রটা আপাতত কিছুটা মিশ্র। কোর্ট বাজার, চৈতালি মার্কেট বা টিন বাজারের মতো ঐতিহ্যবাহী জায়গাগুলিতে ব্যবসায়ীদের কিছুটা আক্ষেপ রয়েছে। বস্ত্র ব্যবসায়ী শুভাশিস সিনহা ও শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, সকাল থেকে ক্রেতারা আসছেন, জিনিস দেখছেন এবং দরদামও করছেন। তবে অনলাইনে কেনাকাটা আর নতুন শপিং মলের রমরমার কারণে আগের চেয়ে ভিড় কিছুটা কম। জেলার অর্থনীতিতে ফসলের দাম বা অন্নপূর্ণা যোজনার টাকার একটা প্রভাব থাকলেও, বছরের এইসময় পুজোর আনন্দ থেকে মানুষ নিজেদের বঞ্চিত রাখতে চান না। তাই শহরের শপিং মলগুলিতে সন্ধ্যার পর থেকেই ব্যাপক ভিড় বেশ নজর কাড়ছে। কর্মী ও ক্রেতাদের হাঁকডাকে বাজার জমে উঠেছে।
বোলপুরের ছবিটা অবশ্য প্রথম থেকেই বেশ জমজমাট। চৌরাস্তা সংলগ্ন শান্তিনিকেতন রোড, চিত্রা মোড় ও লজ মোড়ের শপিং মল এবং রেডিমেড পোশাকের দোকানগুলিতে দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। রাত পর্যন্ত ভিড় দেখা যায়। ছুটির দিন হওয়ায় সোনাঝুরি খোয়াই হাটেও পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভিড় ছিল রীতিমতো চোখে পড়ার মতো। বোলপুরের বস্ত্র ব্যবসায়ী অভিষেক দালাল বেশ উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, পুজো যত এগিয়ে আসছে, আমাদের বিক্রিবাটা ততই ভালো হচ্ছে। মহালয়ার পর বিক্রি আরও বাড়বে বলেই আশা করছি।
রামপুরহাট মহকুমার ছবিটা আবার কিছুটা আলাদা। রামপুরহাট, নলহাটির কাপড়ের দোকানগুলিতে ভিড় বেশ ভালই। ক্রেতাদের একাংশের দাবি, রামপুরহাটে ব্যাঙের ছাতার মতো শপিং মল গজিয়ে উঠলেও অনেক ক্ষেত্রেই সেখানকার কাপড়ের গুণগত মান ততটা ভালো নয়। তাই চাকচিক্য এড়িয়ে বহু মানুষ ফের সেই পুরনো কাপড়ের দোকানগুলির উপর ভরসা রাখছেন।
শুধু শহর নয়, দুবরাজপুর, সাঁইথিয়া থেকে শুরু করে মহম্মদবাজার, নানুর, কীর্ণাহারের গ্রামীণ বাজারগুলিতেও ভিড় ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। নতুন জামাকাপড়, জুতো থেকে শুরু করে সাজসজ্জার সামগ্রীর দোকানগুলিতে ক্রেতাদের আনাগোনা স্পষ্টতই চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে, অনলাইনে কেনাকাটার ধুম বা শপিং মলের চাকচিক্যের মধ্যেও বাজারের ব্যবসায়ীরা আশায় বুক বাঁধছেন। আগামী কয়েকদিনে জেলার প্রতিটি বাজার ক্রেতাদের ভিড়ে আরও জমজমাট হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন দোকানদাররা।