নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: গঙ্গার ভাঙনে পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনে ফের ব্যাহত ট্রেন চলাচল। সাহেবগঞ্জ বারহারওয়া শাখার সাকরিগলি ও মহারাজপুর স্টেশনের মাঝে রেললাইনের পাশে গঙ্গার বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়েছে। ফলে ঝুঁকি এড়াতে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ডাউন লাইনের ট্রেন চলাচল। এর জেরে বুধবার সাহেবগঞ্জ-রামপুরহাট মেমু, সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি সহ বাতিল করা হয় একাধিক ট্রেন। ঘুরিয়ে দেওয়া হয় বালিয়া-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস, কাঠগোদাম- হাওড়া বাঘ এক্সপ্রেস, গয়া-হাওড়া এক্সপ্রেস, দিল্লি-কামাখ্যা ব্রহ্মপুত্র মেল সহ বহু ট্রেন।
পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনের জনসংযোগ অধিকারিক সুকান্ত মণ্ডল বলেন, ভাঙন ঠেকাতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ চলছে। ঝুঁকি এড়াতে মঙ্গলবার রাত থেকে সাহেবগঞ্জ-বারহাওয়া শাখায় ডাউন লাইনে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। আপ লাইনে গতি নিয়ন্ত্রণ করে কিছু ট্রেন চালানোর চেষ্টা হচ্ছে। পরিস্থিতির কারণে বেশকিছু ট্রেন বাতিল ও কিছু ট্রেনের রুট বদল করা হয়েছে।
চলতি মাসের প্রথমেই পূর্ব রেলের মালদহ ডিভিশনের নিউ ফরাক্কা স্টেশনের কাছে লাইনে ধসের জেরে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের মধ্যে কার্যত রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। বাতিল হয় বহু ট্রেন। চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ধসে ক্ষতিগ্রস্ত লাইন মেরামত করে প্রায় ৬২ ঘণ্টা পর ধীরে ধীরে ট্রেন পরিষেবা চালু করা হয়। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের গঙ্গার ভাঙনে মালদহ ডিভিশনে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তির শিকার যাত্রীরা। সাহেবগঞ্জ-বারহাওয়া শাখায় ডাউন লাইন বন্ধ থাকায়, যেসব ট্রেন মালদহ কিংবা রামপুরহাট স্টেশন ছুঁয়ে যাওয়ার কথা, সেগুলি আসতে পারছে না। এদিন বিকেল পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট শাখায় ডাউন লাইনে ১০টি ও আপ লাইনে ১১টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
রেল সূত্রে খবর, রামপুরহাট-সাহেবগঞ্জ মেমু যেমন বাতিল করা হয় এদিন, তেমনই সাহেবগঞ্জ-রামপুরহাট মেমু এবং সাহেবগঞ্জ-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়। কিউল-মালদহ টাউন এক্সপ্রেস মালদহ টাউনের পরিবর্তে সাহেবগঞ্জ পর্যন্ত চালানো হয়। ঘুরিয়ে দেওয়া হয় গয়া-হাওড়া এক্সপ্রেস, ভাগলপুর-রাঁচি বনাঞ্চল এক্সপ্রেস। জামালপুর-হাওড়া এক্সপ্রেস ভাগলপুর-দুমকা-রামপুরহাট রুট দিয়ে চালানো হয়। রুট বদলেছে দিল্লি-কামাক্ষ্যা ব্রহ্মপুত্র মেলের। ভাতিন্ডা-বালুরঘাট ফরাক্কা এক্সপ্রেস জামালপুর-মুঙ্গের-কাটিহার হয়ে চালানো হয়।