


সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: পর্যটন মরশুমে বছরের শেষ সপ্তাহে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের আদ্রা ডিভিশন রোলিং ব্লক নিয়েছে। যার জন্য আজ, সোমবার থেকে আগামী ২৮ ডিসেম্বর রবিবার পর্যন্ত এই ডিভিশনে ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়তে চলেছে। এই সময়ে ইঞ্জিনিয়ারিং, টিআরডি, সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশনের যৌথভাবে কাজ হবে। ফলে ট্রেন চলাচলে প্রভাব পড়বে। রেলের খামখেয়ালিপনার জন্য পুরুলিয়া, বাঁকুড়া জেলার মানুষ হয়রানির শিকার হচ্ছে। রেলের বিরুদ্ধে তৃণমূল নেতৃত্ব ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।
আদ্রা ডিভিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ৬৮০৪৫/৬৮০৪৬ (আসানসোল -আদ্রা) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৩ ডিসেম্বর বাতিল থাকছে। ৬৮০৫৩ /৬৮০৫৪ (আদ্রা -বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৮ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া ৬৮০৭৭/ ৬৮০৭৮ (আদ্রা-ভাগা) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৩ ও ২৭ ডিসেম্বর চলাচল করবে না। ৬৮০৬১/৬৮০৬২ (আদ্রা-আসানসোল) মেমু প্যাসেঞ্জার ২২, ২৫ ও ২৮ ডিসেম্বর বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি কিছু ট্রেনের যাত্রা পথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৮০১৯/ ১৮০২০ (ঝাড়গ্রাম -ধানবাদ) দৈনিক এক্সপ্রেস ২২ ও ২৫ ডিসেম্বর বোকারো স্টিল সিটি পর্যন্ত চলাচল করবে। ওই দুই দিন বোকারো-ধানবাদ শাখায় পরিষেবা বাতিল থাকবে। ১৩৫০৩/১৩৫০৪ (বর্ধমান-হাটিয়া) মেমু প্যাসেঞ্জার ২২ ও ২৫ ডিসেম্বর গোমো পর্যন্ত চলাচল করবে। দু’দিন গোমো-হাটিয়া রুটে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ৬৮০৫৬/৬৮০৬০ (টাটা- আসানসোল-বরাভূম) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৩ ডিসেম্বর আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে। ওইদিন আদ্রা-আসানসোলের মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। একইভাবে, ৬৩৫৯৪/৬৩৫৯৩ (আসানসোল-পুরুলিয়া) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৮ ডিসেম্বর আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে। আদ্রা-পুরুলিয়ার মধ্যে পরিষেবা বাতিল থাকবে। ৬৮০৫৫/৬৮০৫৬ (আসানসোল-টাটা) মেমু প্যাসেঞ্জার ২৪ ডিসেম্বর আদ্রা পর্যন্ত চলাচল করবে। আদ্রা থেকে টাটা পর্যন্ত পরিষেবা বাতিল থাকবে।
এছাড়া কিছু ট্রেনকে দেরিতে চালানো হবে। যার মধ্যে ১৮০৩৬ (হাটিয়া -খড়্গপুর) এক্সপ্রেস ২৪ ও ২৮ ডিসেম্বর হাটিয়া থেকে নির্ধারিত সময়ে ২ ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। ১৮১৮৪(বক্সার-টাটা) এক্সপ্রেস ২৮ ডিসেম্বর বক্সার থেকে এক ঘণ্টা এবং ৬৮০৮৮(ধানবাদ-বাঁকুড়া) যেমুন প্যাসেঞ্জার ২২ ও ২৭ ডিসেম্বর ধানবাদ থেকে এক ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। পাশাপাশি ১৮০৩৫(খড়্গপুর-হাটিয়া) এক্সপ্রেস ২৮ ডিসেম্বর খড়্গপুর থেকে আড়াই ঘণ্টা দেরিতে ছাড়বে। আইএনটিটিইউসির পুরুলিয়া জেলা সভাপতি উজ্জ্বল কুমার বলেন, বর্তমানে আদ্রা ডিভিশনের রেল পরিষেবা অত্যন্ত জঘন্য। পুরুলিয়া জেলাকে পিছিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলার সাংসদের বড় বড় কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ওঠাবসা। অথচ পুরুলিয়া এক্সপ্রেস প্রতিদিন দেরিতে ঢুকছে। বন্দেভারতের মতো ট্রেন সময়ে চলাচল করছে না। বিষয়টি নিয়ে আমরা দলীয়ভাবে প্রতিবাদে নামব। বিজেপি বিধায়ক কমলাকান্ত হাঁসদা বলেন, রেলের বিষয়ে জেলার সমস্ত বিধায়ক রেলদপ্তর থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পর্যন্ত জানাব।