


বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: অবিলম্বে মণিপুরের সমস্ত রাস্তাঘাট সচল করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে সাধারণ মানুষের অবাধ যাতায়াত। গত শনিবার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে প্রশাসনকে এমনই নির্দেশ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বেঁধে দিয়েছিলেন সময়সীমা। সেই অনুযায়ী আজ, ৮ মার্চ সকাল থেকে অভিযানে নেমে বাধার মুখে পড়তে হল নিরাপত্তা বাহিনীকে। কোথাও কোথাও বিক্ষোভকারীদের হটিয়ে দিতে লাঠিচার্জ করেন জওয়ানরা। বিভিন্ন জেলায় কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। তা ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যটিতে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মণিপুরে স্বাভাবিক জীবন ফেরানোর কথা বলেও এখনও আশ্বস্ত হতে পারছেন না কুকিরা। পৃথক প্রশাসন গঠিত না হওয়া পর্যন্ত রাস্তা ছাড়তে নারাজ তাঁরা। যার জেরে বাহিনীর ‘অবাধ চলাচাল’ অভিযানের প্রথম দিনেই দেখা দিল অশান্তি। কাংপোকপি জেলায় টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ করেন কুকি জনগোষ্ঠীর মহিলারা। আটকে দেওয়া হয় বাস। বাসে পাথর ছোঁড়ার অভিযোগ উঠেছে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে। যার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় বিশাল নিরাপত্তা বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে জওয়ানরা লাঠিচার্জ করলে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
২০২৪ সালের মে মাস থেকে অশান্তির আগুনে জ্বলছে মণিপুর। কুকি ও মেইতেই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ২৫০ জন। বাস্তুচ্যূত ৬০ হাজারের বেশি মানুষ। মুখ্যমন্ত্রী পদে এন বীরেন সিংয়ের ইস্তফার জেরে রাজ্যে জারি হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। গত শনিবার রাজে্যর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নয়াদিল্লিতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর কড়া নির্দেশের পরও শনিবার রাজ্যজুড়ে শান্তিপূর্ণ অবাধে যান চলাচল শুরু করা যায়নি। এর আগেও ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসেও গণপরিবহন পরিষেবা পুনরায় চালু করার জন্য রাজ্য সরকার একই ধরণের উদ্যোগ নিলে তা ব্যর্থ হয়।