


সংবাদদাতা, কাটোয়া: বিহারের গয়াতে স্ত্রীর জন্য পাহাড় কেটে রাস্তা তৈরি করেছিলেন দশরথ মাঝি। স্ত্রীর প্রতি তাঁর ভালোবাসা গোটা দেশকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। মঙ্গলকোটের যুবক বিক্রম মাঝিও সেই একই পথের পথিক। অসুস্থ স্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে কাটোয়া শহর থেকে দণ্ডি কাটতে কাটতে কেদারনাথ পাড়ি দিলেন। শুক্রবার দুপুরে ভাগীরথীতে স্নান করে যাত্রা শুরু করেন তিনি।
কাটোয়া থেকে কেদারনাথ প্রায় দু’ হাজার কিমি রাস্তা। পায়ে হেঁটে বা সাইকেলে চড়ে কেদারনাথ অনেকেই পাড়ি দেন। কিন্তু গোটা রাস্তা দণ্ডি কেটে যাওয়া সত্যি দুঃস্বপ্ন বলে ভাবছেন অনেকেই। স্ত্রীর প্রতি বিক্রমের এমন ভালোবাসা দেখে অনেকেই মুগ্ধ। রাস্তায় কেউ তাঁকে ভালোবেসে জল খাওয়াচ্ছেন। কিন্তু বিক্রমের একটাই পণ, স্ত্রীকে সুস্থ দেখা। তাঁর এমন ধনুক ভাঙা পণে স্তম্ভিত তাঁর পরিবারের লোকজনও।
মঙ্গলকোটের চানক অঞ্চলের মল্লিকপুরের বাসিন্দা বিক্রম মাঝি একজন রাজমিস্ত্রি। বাড়িতে রয়েছেন তাঁর বৃদ্ধা মা মনিদেবী, বড় দাদা সুবোধ মাঝি। স্ত্রী মুনমুন দেবী আট বছরের ছেলে বিট্টুকে নিয়ে বাপের বাড়ি দেওয়ানদিঘির ভিটা গ্রামে থাকেন। বিক্রমের তিন বোনের আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে। দু’ বছর আগে তাঁর বাবা মদন মাঝির মৃত্যু হয়েছিল। বিক্রমের স্ত্রী মুনমুন দেবীর হার্টের অসুখ। তাঁদের বিয়ে হয়েছে ৯ বছর আগে। বিয়ের এক বছরের মধ্যেই ধরা পড়ে মুনমুনের হার্টের দুটো ভালভেই অসুখ। বিক্রম স্ত্রীকে নিয়ে বেঙ্গালুরুতে গিয়ে চিকিৎসা শুরু করেন। বিক্রমের কথায়, আমি এখনও পর্যন্ত প্রায় সাত লক্ষ টাকা খরচ করেছি। তাতে কিছুটা সুস্থ হলেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত হতে পারেননি। তাই স্ত্রীর মঙ্গলকামনায় কেদারনাথ যাত্রার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। গোটা রাস্তাটাই আমি দণ্ডি কেটে যাব। স্ত্রীকে ছাড়া আমার জীবনটাই অসম্পূর্ণ। বিক্রম ভাগীরথীর দেবরাজ স্নান ঘাটে স্নান করে দণ্ডি কাটতে শুরু করেন। কাটোয়া-বর্ধমান রোড ধরে সোমবার গুসকরা শহরে পৌঁছবেন। সেখানে গোবিন্দপুর শিবমন্দিরে জল ঢেলে দার্জিলিং মোড়ের রাস্তা দিয়ে দণ্ডি কেটে কেদারনাথ পৌঁছবেন।
কতদিন, কতমাস, লাগবে তা কেউ বলতে পারেন না। তবে স্ত্রীর প্রতি এমন ভালোবাসা দেখে সবাই মুগ্ধ। কাটোয়ার বাসিন্দা অশোক রায়, শিবম হালদার বলেন, ওই যুবকের এমন সাহস ও ভালোবাসা দেখে সত্যিই আমাদের খুব ভালো লাগছে। বিক্রম এদিন আরও বলেন, রাস্তায় ঝড়বৃষ্টি এলেও আমি থামব না। লক্ষ্যে আমি পৌঁছবই। পথচলতি মানুষরাও যুবকের এহেন কর্মকাণ্ড দেখে তাঁকে সাহস জোগাচ্ছেন। -নিজস্ব চিত্র