নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শহরজুড়ে চোখ জুড়ানো থিমের পাশাপাশি এবার দেখা মিলবে নানা বৈচিত্রের সাবেকি দুর্গা প্রতিমাও। আছে নানা আলোর রোশনাই। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজোকে ঘিরে জমজমাট উত্তর থেকে দক্ষিণের নানা পুজো।
মানিকতলার রাজেন্দ্রলাল স্ট্রিট সাধারণ দুর্গাপুজো এবার ৮৩তম বর্ষে পা দিল। হোগলাপাতা দিয়ে তৈরি হয়েছে এখানকার মণ্ডপ। এখানকার থিম ‘বুনট’। আদি ও নব্যর মেলবন্ধ তুলে ধরা হয়েছে এখানকার মণ্ডপসজ্জায়। এখানকার প্রতিমা সাবেকি। পরিবেশবান্ধব ও নানা কারুকার্য সংবলিত এই মণ্ডপ দেখতে দশনার্থীদের ভিড় উপচে পড়বে বলেই উদোক্তাদের আশা। মণ্ডপ ও প্রতিমার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে থাকছে নানা আলো। এই পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনায় ছিলেন মন্ত্রী তাপস রায়, হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় প্রমুখ।
পুজো কমিটির সহসভাপতি রুমকু চট্টোপাধ্যায় জানান, পুজোকে ঘিরে প্রতিদিন থাকছে বর্ণময় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বোসপুকুর পারিজাত ক্লাবের ৫৭তম বর্ষের নিবেদন, ‘কয়লা কুঠির দেশে মা আসেন আলো হয়ে’। কয়লাকুঠির কালো অন্ধকার আজ আর ভয়ের নয়। এই অন্ধকারের বুকেই জ্বলে উঠেছে আলোর উৎসব। মাদুর্গা এখানে কেবল দেবী নন—শক্তি, আশা, সংগ্রাম ও জয়ের প্রতীক। যে-হাত সারাবছর কয়লা তোলে, সেই হাতই আজ মায়ের সামনে অঞ্জলি দেয়। যে-চোখ অন্ধকার সুড়ঙ্গে আলো খোঁজে, সেই চোখই আজ মায়ের মুখে দেখে আশার আলো। উদ্যোক্তাদের কথায়, এই শরতে কয়লাকুঠির সেই কালো মাটির দেশেই আমাদের মায়ের আগমন। কয়লার কালো রঙের পাশে আজ মিশে যায় ঢাকের শব্দ, ধূপের গন্ধ ও আলোর ঝলকানি।
নজর কাড়ছে জোকায় ডায়মন্ডহারবার রোডে ডিটিসি সাদার্ন হাইটস আবাসনের পুজো। ছ-বছরে পা দিল। মণ্ডপ সেজেছে রাজবাড়ির আদলে। এখানে মাদুর্গা এখানে একইসঙ্গে দিব্যশক্তির প্রতীক এবং পরিবারের পরম আদরের কন্যা। বরানগর শিবমন্দির মাঠ দুর্গোৎসবের এবার ৯০ বছর। তাদের থিম মহানায়ক উত্তমকুমার জন্মশতবর্ষ। আলোকসজ্জার থিম বন্দে মাতারম। এই পুজোপ্রাঙ্গণ সাজানো হয়েছে উত্তমকুমার অভিনীত বিভিন্ন চলচিত্রের স্থিরচিত্রে। সব মিলিয়ে মণ্ডপজুড়েই নস্টালজিয়া। বৈদ্যবাটি জোড়া অশ্বত্থতলা সর্বজনীনের থিম ‘রাজবাড়ি’।



