


সংবাদদাতা, ডোমকল: পূর্বপুরুষের কবরের উপরে বাড়ি তৈরি নিয়ে বচসা বাধে। সেই বচসা থেকেই কোদাল দিয়ে জেঠতুতো দাদাকে খুনের অভিযোগ উঠল ভাইয়ের বিরুদ্ধে। বুধবার দুপুরে জলঙ্গির ঘোষপাড়ার এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম আব্দুস সালাম(৫৬)। ঘটনাস্থলে পৌঁছে জলঙ্গি থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। ঘটনার পর থেকেই পলাতক মৃতের খুড়তুতো ভাই তথা অভিযুক্ত আনোয়ার মণ্ডল। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ বলেন, অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চলছে। তবে, এখনও পর্যন্ত লিখিতভাবে কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সালাম সাহেব চাষবাসের কাজ করতেন। আনোয়ার মাঝেমধ্যে শ্রমিকের কাজ করত। সালাম সাহেব সম্পর্কে আনোয়ারের জেঠতুতো দাদা। সম্প্রতি বাংলার বাড়ি প্রকল্পে ঘর তৈরির জন্য আনোয়ার আর্থিক সাহায্য পেয়েছিল। বাড়ি তৈরির উদ্দেশ্যে বুধবার তার জায়গায় সে ভিত খোঁড়ার কাজ শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, যে জায়গায় ভিত খোঁড়া হচ্ছিল, সেটি আনোয়ারের মালিকানাধীন। তবে, সেখানে সালামের বাবা এবং তাদের দুই ভাইয়ের দাদুর কবর রয়েছে। সেই কারণে সালাম সাহেব কিছুটা জায়গা ছেড়ে অন্যত্র ঘর নির্মাণের পরামর্শ দেন। এই নিয়ে দু’জনের মধ্যে বচসা বাধে। অভিযোগ, বচসার এক পর্যায়ে হাতের কাছে থাকা কোদাল দিয়ে দাদার মাথায় কোপ মারে আনোয়ার। গুরুতর জখম হওয়ার পরও সালাম সাহেবকে একাধিকবার আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থলেই তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন। রক্তে ভেসে যায় এলাকা। চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা ছুটে আসেন। তার আগেই অভিযুক্ত আনোয়ার ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরিবারের লোকজন গুরুতর জখম অবস্থায় সালাম সাহেবকে উদ্ধার করে সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, আনোয়ার বরাবরই উগ্র স্বভাবের। কয়েক বছর আগেও তার বিরুদ্ধে এলাকার এক ব্যক্তিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছিল। সে প্রায়ই পাড়ার লোকজনের সঙ্গে ঝামেলা করত। এই ঘটনায় গ্রামবাসীরা অভিযুক্তের দ্রুত গ্রেপ্তারি ও কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। মৃতের মেয়ে মাম্পি খাতুন বলেন, আমি বাড়িতে ছিলাম না। যেখানে ভিত খোঁড়া হচ্ছিল, সেখানে আমার দাদুর কবর রয়েছে। বাবা শুধু কিছুটা জায়গা ছেড়ে অন্যত্র ঘর করতে বলেছিলেন। এমনকি, কাকাকে কিছুটা জমিও দেওয়া হয়েছিল। তারপরও জোর করে ওই জায়গায় ঘর করার চেষ্টা করছিল কাকা। বাবা শুধু বিষয়টি বলতে গিয়েছিলেন। আর তার জেরেই বাবাকে এভাবে খুন করা হল।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা ঘোষপাড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান শুকচাঁদ শেখ বলেন, ওই জায়গায় ওঁদের পূর্বপুরুষের কবর রয়েছে। সেই কারণে সালাম কিছুটা জায়গা ছেড়ে ঘর করার কথা বলেছিলেন। এই সামান্য বিষয়েই আনোয়ার ওঁকে খুন করেছে। আনোয়ার বরাবরই এরকম উচ্ছৃঙ্খল ছেলে। ও নিজের মাকে পর্যন্ত মারধর করে। আর আজ এরকম নৃশংস ঘটনা ঘটাল। আমরা ওর কঠোর শাস্তি চাই।