নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: ডেটিং অ্যাপে নিজের নাম পরিচয় গোপন রেখে তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করে যুবক। নিজেকে রাজীব রায় বলে দাবি করত সে। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে তরুণীর সঙ্গে সম্পর্ক এবং একাধিকবার সহবাসের অভিযোগ ওঠে। শেষ পর্যন্ত আসল পরিচয় জানতে পেরে বিয়ের জন্য চাপ দিতেই বেঁকে বসে যুবক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডোমজুড়ের সলপে অভিযুক্তের সোনার দোকানে গিয়ে বচসায় জড়িয়ে পড়েন বরানগরের বাসিন্দা ওই তরুণী। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ঘটনাস্থল থেকে আটক হন অভিযুক্ত মহম্মদ ফারহাদ। পরে তরুণীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করে ডোমজুড় থানার পুলিশ।
অভিযোগকারী তরুণীর দাবি, ২০২৩ সালে ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে রাজীব রায় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। কথাবার্তা থেকে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। এরপর বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দিনের পর দিন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন ওই ব্যক্তি। একাধিকবার সহবাসও হয়। কয়েক মাস আগে তিনি জানতে পারেন, রাজীব রায় নামে পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তির আসল নাম মহম্মদ ফারহাদ। এরপরই তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন তরুণী। তখনই সম্পর্ক অস্বীকার করে বিয়েতে রাজি না হওয়ার অভিযোগ ওঠে ফারহাদের বিরুদ্ধে। তরুণীর আরও দাবি, পরে তিনি জানতে পারেন, আরও অনেক মহিলার সঙ্গে ফারহাদের সম্পর্ক রয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সলপের দোকানে গিয়ে এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলতে গেলে দু’জনের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয়। পরে উত্তেজনা ছড়ায়। আওয়াজ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা সেখানে পৌঁছন। তরুণী তাঁদের গোটা বিষয়টি জানান। এরপর ফারহাদকে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন স্থানীয়রা। তাঁদের দাবি, এর আগেও কয়েকজন মহিলা ওই যুবকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। এমনকি দামি গাড়িতে স্টিকার লাগিয়ে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। মোবাইল ফোনে একাধিক মহিলার সঙ্গে তাঁর ছবি পাওয়া গিয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের। ঘটনায় ‘লাভ জিহাদ’-এর অভিযোগও তোলেন তাঁরা। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারহাদ। তাঁর দাবি, তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অভিযুক্তের বাবা মহম্মদ ইলিয়াসের দাবি, ছেলের আচরণের জেরে তাঁর স্ত্রী বছরখানেক আগে বাড়ি ছেড়ে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছে। বুধবার অভিযুক্তকে হাওড়া জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন।