নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রাক্তন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের মামলায় এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সামনে আনল ইডি। ইউনেসকোর নাম ভাঁড়ানো দুর্গাপূজোর এন্ট্রিপাস দুর্নীতি কাণ্ডে তৃণমূলের গায়ক নেতা ইন্দ্রনীলের সংস্থার বিরুদ্ধে তদন্ত করছে এজেন্সি। তার তদন্তে বুধবার জারি করা প্রেস বিবৃতিতে ইডি উল্লেখ করেছে, ইন্দ্রনীল সেন ও তাঁর সংস্থা মেসার্স অক্টেভ রেকর্ডসে ৩.৮ কোটি টাকা জমা পড়েছে। তার মধ্যে ৩০ লক্ষ টাকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে। বিবৃতিতে উল্লেখ রয়েছে, ইন্দ্রনীল দাবি করেছেন এই টাকা রয়্যালটি হিসাবে দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। তবে কীসের জন্য এই রয়্যালটি, তা রিলিজে উল্লেখ করা হয়নি। এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আগামী বুধবার (৭ অক্টোবর) আবার ইডি দপ্তরে তলব করা হয়েছে ইন্দ্রনীল সেনকে।
এই দুর্নীতি কাণ্ডে কেন্দ্রীয় এজেন্সি ইন্দ্রনীল সেনের বাড়িসহ মোট ১০টি জায়গায় তল্লাশি চালায়। বাজেয়াপ্ত করা হয় বেশকিছু নথি। যার মধ্যে রয়েছে লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক কাগজ। তার ভিত্তিতেই বুধবার প্রাক্তন মন্ত্রীকে ইডি অফিসে ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপরই সন্ধ্যায় একটি প্রেস বিবৃতি জারি করে কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তাতে এজেন্সি উল্লেখ করেছে, দুর্গাপুজোর প্রিভিউয়ের নামে পাস বিক্রি করে আসা টাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তুলে পাচার করা হয়েছে। তাতে ইডি জানিয়েছে, মন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর ঘনিষ্ঠ ধ্রুবজ্যেতি বোস ও দীপেশ রায়কে ৮৫ কোটি টাকার সরকারি টেন্ডার পাইয়ে দেন। এই টাকার একটা ভাগ ঘুরপথে প্রাক্তন মন্ত্রীর আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। টেন্ডারে সুবিধা পাইয়ে দিয়ে গায়ক নেতার আত্মীয়দের অ্যাকাউন্টে আসা বিপুল পরিমাণ টাকা আবার তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই টাকা কাটমানি হিসেবে এসেছে বলে ইডি দাবি করছে। তদন্তকারীদের বক্তব্য, টেন্ডার পাইয়ে দিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী যে টাকা নিয়েছিলেন, ব্যাংক লেনদেন থেকে স্পষ্ট হয়েছে। এই টাকা আত্মীয়দের অ্যাকাউন্ট থেকে কোথায় কার কাছে গিয়েছে, সেটি জানতেই ইন্দ্রনীলবাবুকে ডাকা হয়েছে। পাশাপাশি কোথায় কোথায় তাঁর সম্পত্তি রয়েছে এবং সেগুলি কীভাবে কেনা হয়েছে, তার খোঁজ করছে এজেন্সি।