নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘জ্ঞানেশ কুমার চোর। জ্ঞানেশ কুমার ডাকাত। তাঁকে এখনই পদত্যাগ করতে হবে। রাহুল, তেজস্বীরা বিহারে ভোট চুরির বিষয়টি আগেই তুলেছিলেন। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন হোক, বা মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানার ভোট। চুরি করে জিতেছে বিজেপি। বাংলায় ভোট লুট হয়েছে। আমাদের তো ঘর থেকে বেরতেই দিচ্ছে না। তবে এবার দেখব কীভাবে আমাদের এই জোটকে আটকায়। গণতন্ত্র রক্ষা করতে যদি প্রাণ দিতে হয়, দেব। আমাদের কেউ আটকাতে পারবে না।’ বুধবার দিল্লিতে মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’র বৈঠকে এই ভাষাতেই বিজেপিকে আক্রমণ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁকে সমর্থন জানালেন রাহুল গান্ধীও। সাফ বললেন, ‘দক্ষিণ কলকাতায় ইভিএম পুড়ে যাওয়া অত্যন্ত সন্দেহজনক। ইভিএম কারচুপির বড়ো প্রমাণ এটা।’
গত ৮ জুন ‘ইন্ডিয়া’র নেতা-নেত্রীরা একই ধরনের বৈঠকে বসেছিলেন। তবে এদিনের বৈঠক ছিল অনেক বেশি প্রাণবন্ত। অ্যালার্জি, অহং ছেড়ে প্রত্যেকেই মেনে নিয়েছেন, একজোট হওয়া দরকার। বৈঠকে মমতাকে কাছে টেনে নেন সোনিয়া গান্ধী। বসেনও পাশাপাশি। কথাও হয়। সোনিয়াকে উত্তরীয় পরান মমতা। পরে সাংবাদিক সম্মেলনেও টেনে আনেন। গোড়ায় সাংবাদিক সম্মেলনে সোনিয়ার থাকার কথা ছিল না। কিন্তু মমতার অনুরোধে রাখেন তিনি। আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে পুরানো মেজাজে মমতার ফুঁসে ওঠা বক্তব্যে টেবিল চাপড়ে প্রশংসা করতে দেখা যায় সোনিয়া, সুপ্রিয়া সুলেকে। রাহুল গান্ধীও জানিয়ে দেন, ‘মোদি, অমিত শাহ, জ্ঞানেশ কুমারের মতো যারাই দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে, শাস্তি পাবেই। কেউ বাঁচাতে পারবে না।’ বৈঠক শেষে অভিষেকের দাবি, জ্ঞানেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আজ বৃহস্পতিবার দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন ডেকেছেন মমতা।