নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মমতা তৃণমূলের সঙ্গে জোট ইস্যুতে এবার সুর নরম করলেন অধীর চৌধুরী। শনিবার বহরমপুরে সাংবাদিক সম্মেলনে প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ দাবি করেন, কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোট নিয়ে এখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রই তাগিদ বেশি। অধীরবাবু বলেন, ‘জোট নিয়ে কথা বলতেই পারেন। তাঁরা মনে করেছেন, এখন কথা বলা দরকার। তাই কথা বলেছেন। হারার পর উনি দিল্লি গিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তাগিদ এখন থাকবে, কারণ তিনি পরাজিত হয়েছেন। আর এখনকার মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে হারিয়েছেন। দলের তরফে জোট নিয়ে আমাকে এখনো কিছু জানানো হয়নি। এগুলি শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাপার। আমাদের যা কাজ, আমরা করছি। আমরা তৃণমূল সরকারের বিরোধিতা করেছি। এখন বিজেপি সরকারের বিরোধিতা করব।’
যে সমস্ত পুরসভায় মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেখানে নির্বাচন জরুরি বলেই অধীরবাবু মনে করেন। এদিন তিনি বলেন, ভোট হওয়া তো জরুরি। কিন্তু, কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের অধীনে আমরা ভালভাবে ভোট দিতে পারি না। রাজ্য নির্বাচন কমিশন কি আদৌ পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনে মানুষকে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেবে? সমস্ত রাজনৈতিক দলকে কি স্বাধীনভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেবে? এটাই আমার কাছে বড়ো প্রশ্ন।
অধীরবাবু হুঁশিয়ারি দেন, নির্বাচনের আগে সমস্ত রাজনৈতিক দলের কর্মীদের হেনস্তা বন্ধ করতে হবে। না হলে কংগ্রেসের তরফে আরও বড়ো প্রতিবাদ হবে। তিনি বলেন, ‘পুলিশ চাইছে রেজিনগর উপনির্বাচনে বিজেপি জয়ী হোক। এটা তারা প্রকাশ্যে বলছে। রেজিনগর উপনির্বাচনের আগে কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের উপর রাজনৈতিক হেনস্তা ও অত্যাচার হচ্ছে। এটা অবিলম্বে বন্ধ না হলে বড়ো গণ-আন্দোলনে নামব।’
ভারতের গণতন্ত্রের গরিমা আজ সারা পৃথিবীর কাছে কলঙ্কিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করলেন অধীর। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন নিজে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার জন্য দরখাস্ত করছে। স্বাধীনতার পর নির্বাচন কমিশনের এরকম দুর্নীতি আমরা কেউ দেখিনি। এখানে সাংবাদিকদের স্বাধীনতাও নেই। মতামত দেওয়ার স্বাধীনতা নেই। নতুন করে যোগ হবে ভোট দেওয়ার স্বাধীনতাও নেই। ভারতের গণতন্ত্রের গরিমা আজ সারা পৃথিবীর কাছে কলঙ্কিত হচ্ছে।