নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। এর মাঝেই এবার তৃণমূলের নাম ও প্রতীককে কেন্দ্র করে নয়া বিবাদ উপস্থিত। অভিযোগ, মমতা তৃণমূল যাতে দলীয় প্রতীক না পায়, সেজন্য বড়সড় চক্রান্ত করা হয়েছে। দিল্লির প্রাক্তন স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ সমাজ মাধ্যমে অভিযোগ করেছেন, ঋতব্রত তৃণমূল যাতে নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারে, সেজন্য বড়সড় চক্রান্ত করেছে বঙ্গ বিজেপি।
সৌরভের এই অভিযোগ সামনে আসার পরই এই ব্যাপারে রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি দিয়েছেন মমতাপন্থী সাংসদ দোলা সেন। আপ নেতার অভিযোগ ছিল, কারা আসল তৃণমূল, তা প্রমাণ করতে দুই গোষ্ঠীর থেকে হলফনামা চেয়েছিল কমিশন। সেই হলফনামা আগামী ২৬ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনা সফল করতে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে বিজেপি সরকারের পুলিশ। রাজ্যের ছশোর অধিক থানা হলফনামা সংগ্রহের কাজে নেমে পড়েছিল। মমতাপন্থীরা যাকে হলফনামা দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় স্ট্যাম্পপেপার না পায়, সেই ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
পুলিশ কমিশনারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দেওয়া চিঠিতে তৃণমূলের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরূপ রায়দের প্রতি পুলিশ পক্ষপাতিত্ব করছে। ঋতব্রতদের সমর্থনে প্রায় ১১০০ হলফনামা সংগ্রহে থানার ওসি, আইসিরা কাজ করছেন। এই প্রবণতা বন্ধ নাহলে আইনি পদক্ষেপ করবে মমতা তৃণমূল, হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা। উল্লেখ্য তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত মামলা চলছে সুপ্রিম কোর্টে। এমতাবস্থায় হলফনামা সংক্রান্ত বিষয়ে থানার ওসি, আইসিরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে, এ অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টেও উঠতে চলেছে বলে মনেকেরছে ওয়াকিবহাল মহল। যদিও যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা অরূপ রায়। তাঁর বক্তব্য, আমরা একটি রাজনৈতিক হল। দলীয় বিষয়ে পুলিশ আমাদের সহযোগিতা করতে যাবে কেন? আমাদের সঙ্গে পুলিশকে জড়িয়ে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের কর্মীরাই হলফনামা সংগ্রহের কাজ করছেন।- ফাইল চিত্র



