নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: দু’মাসে ১৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে মালদহ মেডিকেলে। চলতি মাসে পনেরো দিনে চাইল্ড ডেথ হাফ সেঞ্চুরির দোরগোড়ায়। এই পরিস্থিতিতে পুজোর ছুটিতে চাইল্ড ডেথ ঠেকানোই চ্যালেঞ্জ মালদহ মেডিকেলের। সেকারণে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, লেবার রুমের পাশাপাশি নিওনেটাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (নিকু) এবং পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (পিকু) যেন সর্বক্ষণের জন্য সিনিয়র চিকিৎসক থাকেন।
অভিযোগ, মালদহ মেডিকেলে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগগুলিতে এতদিন ঠিকমতো ডাক্তার পাওয়া যেত না। জরুরি পরিস্থিতিতে ‘কল বুক’ দিয়ে ডাকতে হত চিকিৎসকদের। সেক্ষেত্রে অনেক সময় চিকিৎসক দেরিতে পৌঁছানোই শিশুমৃত্যুর ঘটনা ঘটত। এখানেই কড়াকড়ি চাইছে মালদহ মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ। নির্দেশ ঠিকমতো পালন হচ্ছে কি না তা দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিভাগীয় প্রধানের উপর। চিকিৎসকরা ঠিকমতো ডিউটি না করলে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হবে তাঁকে।
এমএসভিপি গণেশচন্দ্র গায়েন বলেন, পুজোর সময় যাতে শিশুবিভাগ সহ কোনো ওয়ার্ডেই চিকিৎসকের ঘাটতি না হয়, সেজন্য আলাদা করে রোস্টার তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। অন ডিউটিতে থাকা চিকিৎসকরা কোনোভাবেই এলাকা ছাড়তে পারবেন না। সেইসঙ্গে ওয়ার্ডে সারাক্ষণ যাতে চিকিৎসক থাকেন, সে ব্যাপারেও বিশেষ খেয়াল রাখা হচ্ছে। শিশুবিভাগ নিয়ে এমএসভিপির বক্তব্য, লেবার ওয়ার্ড সহ নিকু, পিকুতে যাতে সারাক্ষণ চিকিৎসক থাকেন, তা নিশ্চিত করা হয়েছে। কোনোরকম প্রয়োজন হলেই তাঁরা সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। দরকার পড়লে ওয়ার্ডের বাড়তি চিকিৎসককে ডাকানো হবে। যেভাবেই হোক, শিশুমৃত্যু ঠেকানোই আমাদের লক্ষ্য।
মালদহ মেডিকেল কলেজ সূত্রে খবর, গত আগস্ট মাসে ৮৯টি শিশুর মৃত্যু হয়। একদিনেই মৃত্যু হয় দশটি শিশুর। এনিয়ে তোলপাড় হয় রাজ্য স্বাস্থ্য প্রশাসনে। মালদহ মেডিকেলে অস্বাভাবিক হারে শিশুমৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশে তদন্তে আসে বিশেষ টিম। তারা ফিরে গিয়ে রিপোর্ট দেওয়ার পরই সরিয়ে দেওয়া হয় মালদহ মেডিকেলের এমএসভিপিকে। একইসঙ্গে বদলি করা হয় শিশু বিভাগের প্রধানকে। বাড়তি নজর দিতে বলা হয় শিশু বিভাগে। রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার সারপ্রাইজ ভিজিট করেও মালদহ মেডিকেলের খামতি নিয়ে মুখ খোলেন। সেপ্টেম্বরেও ৬৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে মালদহ মেডিকেলে। এমএসভিপি বলেন, গত বছরের তুলনায় শিশুমৃত্যুর হার কম। কিন্তু আমরা চাইছি, চাইল্ড ডেথ আরও কমিয়ে আনতে। তাঁর দাবি, শিশুমৃত্যুর পিছনে লো বার্থ ওয়েট একটা অন্যতম প্রধান কারণ। সেকারণে আমাদের এখন টার্গেট, দু’কেজির কম ওজনের শিশুদেরও যেভাবেই হোক বাঁচানো। সূত্রের খবর, মালদহ মেডিকেলে জন্ম নেওয়া শিশুর মধ্যে মৃত্যুর হার ১৮ শতাংশ। কিন্তু বিভিন্ন নার্সিংহোম থেকে আসা শিশুদের মধ্যে মৃত্যুর হার প্রায় ৪৪ শতাংশ। এক্ষেত্রে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, একেবারে সংকটজনক অবস্থায় নার্সিংহোম থেকে শিশুদের রেফার করে দেওয়া হচ্ছে মালদহ মেডিকেলে। ফলে চেষ্টা করেও বাঁচানো যাচ্ছে না তাদের।



