পেট-পুজোও হোক নিরাপদ  হোটেল, রেস্তরাঁ, দোকানে নজর, উৎসবের দিনগুলিতে অভিযানে খাদ্য সুরক্ষা টিম
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট : বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব দুর্গাপুজোর আনন্দ যাতে কোনোভাবেই ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিষাক্ত ছোঁয়ায় মাটি না হয়, তার জন্য এবার সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করল রামপুরহাট মহকুমা প্রশাসনের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ। পুজোয় প্যান্ডেল পরিক্রমা আর খাওয়া-দাওয়া একে অপরের পরিপূরক, আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে যাতে অসাধু ব্যবসায়ীরা জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো আপস করতে না পারে, তার জন্যই পুজো চলাকালীন দিনগুলিতে একটানা বিশেষ অভিযান চালাবে খাদ্য সুরক্ষা টিম।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট থেকে রামপুরহাটের ছোট-বড় হোটেল, নামী রেস্তোরাঁ ও মিষ্টির দোকানগুলিতে যে ধারাবাহিক ‘সারপ্রাইজ রেড’ বা আকস্মিক অভিযান চালানো হয়েছিল, তাতে একাধিক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। অনেক জায়গাতেই খাবারের রূপ ও স্বাদ ফেরাতে মিষ্টি ও বিরিয়ানির আলুতে ক্ষতিকর কৃত্রিম রঙ মেশানোর মতো গুরুতর অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে। পাশাপাশি মুদি দোকান থেকে নকল হলুদ উদ্ধার, রান্নাঘরের অপরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধযুক্ত পরিবেশ, ফ্রিজে দিনের পর দিন পুরনো পচা মাছ-মাংস ও বাসি গ্রেভি জমিয়ে রাখা এবং একই তেল বারবার ফুটিয়ে রান্না করার মতো চিত্রও প্রকাশ্যে এসেছে। এমনকি রান্নার কাজে ব্যবহৃত জলও রাসায়নিক পরীক্ষায় অনুপযুক্ত প্রমাণিত হয়েছে। সেই সময় তাৎক্ষণিকভাবে সমস্ত বাসি ও বিষাক্ত খাবার ধ্বংস করার পাশাপাশি একাধিক দোকানদারকে ব্যবসা বন্ধের নোটিসও ধরানো হয়েছিল।
আসন্ন পুজোয় মণ্ডপে মণ্ডপে উপচে পড়া ভিড় এবং রাতভর চলা খাওয়া-দাওয়ার আসরে দর্শনার্থীরা যাতে কোনোভাবেই খাদ্যে বিষক্রিয়া বা পেটের রোগে আক্রান্ত না হন, তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি নজরদারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী শনিবার থেকেই ময়দানে নেমে পড়বে খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা। 
রামপুরহাটের মহকুমাশাসক অশ্বিন বি রাঠোর এবং রামপুরহাট স্বাস্থ্যজেলার সিএমওএইচ শোভন দে স্পষ্ট জানিয়েছেন, উৎসবের দিনগুলিতে যত্রতত্র অস্থায়ী খাবারের দোকান বা স্টল গজিয়ে ওঠায় নজরদারি বহুগুণ বাড়িয়ে তোলা হবে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে বিভিন্ন স্থানে ফ্লেক্স ও ব্যানার লাগানোর পাশাপাশি পুজো কমিটিগুলিকেও বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, পুজো চলাকালীন সারপ্রাইজ চেকিংয়ে যদি কোনো হোটেল, রেস্তোরাঁ বা ফুড স্টলে খাবারে ভেজাল বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ন্যূনতম প্রমাণও মেলে, তবে বিন্দুমাত্র রেয়াত করা হবে না। সরাসরি ‘অন স্পট’ সেই প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের এই কঠোর পদক্ষেপে উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনেকটাই স্বস্তি মিলবে বলে মনে করা হচ্ছে।