Bartaman Logo
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্যুৎ সংক্রান্ত গলদেই সিংহভাগ অগ্নিকাণ্ড, ফের ব্যবসা চালু করতে আবেদন মহানগরের ৯০টি হোটেল-গেস্ট হাউসের

গত মাসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানি ঘটে

বিদ্যুৎ সংক্রান্ত গলদেই সিংহভাগ অগ্নিকাণ্ড, ফের ব্যবসা চালু করতে আবেদন মহানগরের ৯০টি হোটেল-গেস্ট হাউসের
  • ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গত মাসে মির্জা গালিব স্ট্রিটের গেস্ট হাউসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একাধিক প্রাণহানি ঘটে। এতদিনে জানা গেল, ওই গেস্ট হাউসে আগুন লাগার মূল কারণ বিদ্যুতের ওভারলোডিং। সূত্রের খবর, সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট হাইপাওয়ার কমিটির বৈঠকে লালবাজারের পুলিশকর্তারা ফরেনসিক রিপোর্টের ভিত্তিতে এই মতামত পেশ করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, শহরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, বিদ্যুতের ওভারলোডিং এবং ওয়্যারিংয়ে ত্রুটিবিচ্যুতি অগ্নিকাণ্ডের মূল কারণ। ফরেনসিক রিপোর্ট বলছে, ঠিকঠাক ওয়্যারিং ছিল না। ক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত লোড পড়েছে বিদ্যুৎবাহী তারে। সেই কারণে হচ্ছে শর্ট সার্কিট। এই অবস্থায় সেফটি অডিটের পর যেসব হোটেল এবং গেস্ট হাউস পুরসভা বন্ধ করে দিয়েছে, সেগুলি পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়্যারিং এবং ওভারলোডিংয়ের সমস্যাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে এই দু’টি বিষয় নিশ্চিত করে তবেই ছাড়পত্র দেওয়া হবে। এর সঙ্গে অবশ্যই দমকলের অগ্নি সুরক্ষাবিধি মেনে চলতে হবে। 

Advertisement

ইতিমধ্যে শহরের ৯১৯টি হোটেল এবং গেস্ট হাউসে ক্লোজার নোটিস ঝুলিয়ে দিয়েছে পুরসভা। নতুন করে ব্যবসা চালু করতে গেলে কী কী নিয়ম মানতে হবে, তা এক জায়গায় করে তৈরি হয়েছে এসওপি। দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে স্পেশাল কমিশনারের নেতৃত্বাধীন হাইপাওয়ার কমিটিকে। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে পুনরায় ব্যবসা চালুর জন্য ৯০টি হোটেল-গেস্ট হাউস কর্তৃপক্ষ আবেদন জানিয়েছে। সেই আবেদনগুলির স্ক্রুটিনি এবং শুনানি  চলছে এখন। ইতিমধ্যে ৪০-৪৫টির স্ক্রুটিনি হয়ে গিয়েছে। আবেদনেও বহু ত্রুটি রয়েছে। বেশিরভাগের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেই। সেগুলি জমা করতে বলা হয়েছে।
বুধবারও ই এম বাইপাস সংলগ্ন রুবি, মুকুন্দপুর, কসবা, আনন্দপুর এলাকার বিভিন্ন হোটেল এবং গেস্ট হাউসে অভিযান চালায় যৌথ কমিটি। পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে খবর, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, অনুমোদনের তোয়াক্কা না করে রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিংকে কমার্শিয়াল কাজে লাগানো হচ্ছে। এই ধরনের ব্যবসা চালানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিকাঠামোও তৈরি করা হয়নি। জানা গিয়েছে, পুরসভার ৬ ও ৭ নম্বর বরো অঞ্চল অর্থাৎ ধর্মতলা, পার্ক স্ট্রিট, চাঁদনি, এক্সাইড, শেক্সপিয়র সরণি, মির্জা গালিব স্ট্রিট, মৌলালি, মল্লিকবাজার, তপসিয়া, পার্ক সার্কাস এলাকার বেশিরভাগ হোটেল এবং গেস্ট হাউস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশেষত ধর্মতলা অঞ্চলের এমন হোটেল, গেস্ট হাউসের সংখ্যা অনেক। আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, যতগুলি হোটেল-গেস্ট হাউস বন্ধ করা হয়েছে, যাবতীয় বিধিনিষেধ মেনে তার মধ্যে বড়োজোর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ব্যবসা ফের চালু করা সম্ভব। কারণ, সিংহভাগ ক্ষেত্রেই ন্যূনতম সুরক্ষাবিধি ও পরিকাঠামোর বালাই ছিল না। তবে পুরসভা অনড়। কলকাতা পুরসভার প্রশাসক তথা কমিশনার স্মিতা পান্ডে বলেন, ‘সুরক্ষাবিধি মানতেই হবে। যাদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়, তাদের ব্যবসা বন্ধই থাকবে।’  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ