


উজ্জ্বল পাল ,বিষ্ণুপুর:
বর্গি হানা থেকে সোনামুখীবাসীকে বাঁচিয়েছিলেন স্বয়ং মা মাইতো কালী। কথিত রয়েছে, বর্গিদের একটি দল লুটপাটের জন্য এখানে আসেন। মারাঠা সর্দার মা কালীর সামনে পুরোহিতকে খড়্গ দিয়ে হত্যা করতে গিয়ে দৈব্যশক্তির বলে আটকে গিয়েছিলেন। দেবীর কোপে পড়ে তিনি অন্ধ হয়ে যান। পরে অবশ্য মাতৃশক্তির কাছে মাথা নত করে তিনি দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। সোনামুখীতে লুটপাট বন্ধ করে অন্যত্র চলে যান মারাঠা সর্দার। তাই স্থানীয়রা আজও মনে করেন, মায়ের মাহাত্ম্যের জন্যই সোনামুখীবাসী সেদিন বর্গি হানা থেকে রক্ষা পেয়েছিলেন।
পুজো কমিটির অন্যতম কর্মকর্তা তথা সোনামুখী পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কুশল বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মাইতো কালীর মাহাত্ম্যের কারণে সারাবছরই ভক্তরা পুজো দিতে আসেন। কালীপুজোর সময় ভক্তদের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীরাও আসেন। বিসর্জনের শোভাযাত্রা দেখতে কার্যত দর্শনার্থীদের ঢল নামে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৭৪২ সাল নাগাদ মারাঠা সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিতের নেতৃত্বে বর্গিদের একটি দল লুটপাটের জন্য বিষ্ণুপুর থেকে সোনামুখীতে আসে। বাদ্য বাজনা সহ হর হর বোম বোম শব্দ করতে করতে সোনামুখীর রানিরবাজারে জড়ো হয়। তখন ওই এলাকাটি ঝোঁপঝাড়ে ভর্তি ছিল। তারই মাঝে একটি ছোট কালীমন্দির ছিল। দিনের বেলাতেই সাধারণ মানুষ নির্জন ওই জায়গায় আসতে ভয় পেতেন। সন্ধ্যায় বর্গিদের বাজনার আওয়াজ পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়ে যে যার ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। এমন সময় এক বৃদ্ধ পুরোহিত দেবীর মন্দিরে প্রদীপ জ্বালাতে আসেন। মন্দিরের সামনে থাকা হাঁড়িকাঠের সামনে মাথা নিচু করে প্রণাম করার সময় ঝোঁপের আড়াল থেকে মারাঠা সর্দার তাঁর খড়্গ উঁচিয়ে পুরোহিতের গলায় কোপ মারতে উদ্যত হন। কিন্তু কোনও এক শক্তির বলে তাঁর খড়্গ নীচে নামেনি। পিছন থেকে কেউ যেন তা টেনে ধরে রাখে। শুধু তাই নয়। বর্গি নেতা দৃষ্টি শক্তি হারান। তখন সেনাপতি তাঁর সঙ্গীদের বলেন, ওই বৃদ্ধকে হত্যা না করে আটকে রাখতে। সকলে মিলে সর্দারের অন্ধত্ব দূর করার জন্য পুরোহিতকে অনুরোধ করেন।