নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একের পর এক বিক্ষোভ, ডিম ছোড়ার ঘটনা, পুলিশের সঙ্গে টানাপোড়েন। এই আবহেই মঙ্গলবার বিকেলে চাপড়া ও তেহট্টে কার্যত নির্বিঘ্নে কর্মিসভা করলেন মহুয়া মৈত্র। কর্মীদের নিয়ে পরপর বৈঠকে সংগঠনকে চাঙ্গা করার বার্তা দিলেন তিনি। একই সঙ্গে নাম না করে দলবদলুদেরও নিশানা করলেন সাংসদ। তাঁর বক্তব্য, লোকবল কম হলেও ‘যা আছে, তা নিয়েই’ ফের শুরু করবেন তাঁরা। পাশাপাশি চাপড়ায় ঋতব্রতপন্থী তৃণমূলের বিধায়ক জেবের শেখকেও নাম না করে আক্রমণ করেন।
সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহের প্রেক্ষিতে মঙ্গলবারের কর্মসূচি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, কর্মিসভা ঘিরে বার বার বিক্ষোভের অভিযোগ তুলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছিলেন মহুয়া। সোমবার রাতেও সোশ্যাল মিডিয়ায় কার্যত পুলিশ প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তিনি লিখেছিলেন, ‘আমি চাপড়া, তেহট্ট আর করিমপুরে মিটিং করব। দেখি ‘বড়সাহেব’ কতগুলি থানার আইসি, ওসিকে নির্দেশ দেয় বিজেপির কুলাঙ্গারদের জড়ো করে বদমাইশি করার জন্য। কত সিভিক পুলিশ ফোন করে কত কর্মীকে হুঁশিয়ারি দেয়।’ সেই মন্তব্যের পরদিনই চাপড়া ও তেহট্টে কর্মসূচি করেন তিনি।
এদিন কর্মীদের উদ্দেশে মহুয়া বলেন, ‘প্রত্যেকটা অঞ্চলে আমি ছোটো ছোটো মিটিং করব। যা লোক আছে, সেই দিয়েই আমরা শুরু করব।’ এরপরই দলবদলুদের নিশানা করে তাঁর মন্তব্য, ‘যারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের টিকিটে জিতে গদ্দারি করল নিজেদের বাঁচাবার জন্য, তারা আজকে দুটো ফুটবল প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভোট পাবে না।’ নিজের রাজনৈতিক পথচলার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘২০০৮ সালেও আমি তিনটে ছাগল ও দুটো মানুষ নিয়ে ঘুরেছি। সেখান থেকেই আজকে এই জায়গায় এসেছি। আগামী দিনেও আমরা এইভাবেই করব।’
উল্লেখ্য, সম্প্রতি কালীগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে কর্মী বৈঠকে যোগ দিতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়েছিলেন মহুয়া। পরে চাপড়ায় তাঁর কর্মিসভা ঘিরেও বিজেপির বিক্ষোভ হয়। তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে ধস্তাধস্তির অভিযোগ ওঠে। গত সপ্তাহে হাইকোর্টের নির্দেশে নিরাপত্তা নিয়ে তেহট্টে কর্মিসভায় গিয়েও বিক্ষোভের মুখে পড়েন সাংসদ। তাঁকে লক্ষ্য করে ডিম ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনাতেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। -নিজস্ব চিত্র