Bartaman Logo
২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গোবিন্দভোগ ধান চাষিদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের ‘কোলাম’

পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদরের গোবিন্দভোগ ধানের চাষিদের চিন্তায় ফেলেছে মহারাষ্ট্রের ‘কোলাম’ ধান। গতবারও এসময় গোবিন্দভোগ ধানের চড়া দাম ছিল।

গোবিন্দভোগ ধান চাষিদের চিন্তায় ফেলে দিয়েছে মহারাষ্ট্রের ‘কোলাম’
  • ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমানের দক্ষিণ দামোদরের গোবিন্দভোগ ধানের চাষিদের চিন্তায় ফেলেছে মহারাষ্ট্রের ‘কোলাম’ ধান। গতবারও এসময় গোবিন্দভোগ ধানের চড়া দাম ছিল। কিন্তু এবার চাষিরা প্রত্যাশিত দাম পাচ্ছেন না। চাল ব্যবসায়ীরা এর পিছনে দু’টি কারণ দেখছেন। তাঁদের মতে, গোবিন্দভোগ চাল সংযুক্ত আরব আমিরশাহি সহ নানা দেশে রপ্তানি হয়। কেরলেও এই চালের কদর আছে। কিন্তু বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে গুণমান খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইদানীং এই চালের মান অনেকটাই কমেছে। মালদহ ও উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় এমন ধান চাষ হয়েছে যা দেখতে গোবিন্দভোগের মতো। সেই চালের সঙ্গে দক্ষিণ দামোদরের গোবিন্দভোগ মিশিয়ে রপ্তানির অভিযোগ উঠেছে। সেইসঙ্গে মহারাষ্ট্রে কোলাম ধানের ফলন বেড়ে গিয়েছে। সেই চাল বিদেশে জায়গা করে নিয়েছে।

Advertisement

কৃষিদপ্তর জানিয়েছে, রাজ্যে ৩৫-৩৮হাজার হেক্টর জমিতে গোবিন্দভোগ ধান চাষ হয়। এর মধ্যে পূর্ব বর্ধমানেই প্রায় ২৪হাজার হেক্টর জমিতে গোবিন্দভোগ ধান হয়। এছাড়া বাঁকুড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুরের মতো জেলাতেও এই ধান চাষ হয়। ওই দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, দাম ভাল পাওয়ায় গোবিন্দভোগ ধান চাষের এলাকা বেড়েছিল। কিন্তু দাম কমতে থাকলে চাষিরা উৎসাহ হারাবেন। এরাজ্যে এধরনের চাল খুব বেশি বিক্রি হয় না। সবটাই বাইরে যায়। সেই জায়গা মহারাষ্ট্রের কোলাম চাল দখল করে নিলে দক্ষিণ দামোদরের চাষিদের কপালে অবশ্যই চিন্তার ভাঁজ পড়বে।
রাইসমিল মালিক কাঞ্চন সোম বলেন, এখন ৬০কেজি গোবিন্দভোগ ধান ৫২০০-৫৩০০ টাকায় চাষিরা বিক্রি করছেন। গতবছর এই ধানের দাম বেশি ছিল। ধান চাষি অরিন্দম মণ্ডল বলেন, দক্ষিণ দামোদরের মতো সুগন্ধি গোবিন্দভোগ আর কোথাও হয় না। একসময় বিদেশে এই চালের অন্যরকম কদর ছিল। এখন ভেজাল মেশাতে গিয়েই সর্বনাশ হয়েছে। মহারাষ্ট্রের কোলাম ধান কখনও গোবিন্দভোগের বিকল্প হতে পারে না। তবু সেই চাল বিদেশে ভালই রপ্তানি হচ্ছে। আর এক ধান চাষি সুমন্ত চক্রবর্তী বলেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে হয়তো আগামী বছরে এই ধানের দাম আরও কমে যাবে। গোবিন্দভোগ ধান চাষ করতে খরচ বেশি হয়। ফলন কম হয়। তাই দাম না বাড়লে লোকসানের মুখে পড়তে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ