সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: সাসপেনশন অব ওয়ার্কের নোটিস না ঝুললেও পুজো বোনাস নিয়ে মাদারিহাটের জয় বীরপাড়া চা বাগানে চরম অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বাগান ম্যানেজমেন্ট বাগান ছেড়ে চলে গিয়েছে। শ্রমিকদের পুজো বোনাস কবে দেওয়া হবে তা নিয়ে মালিকপক্ষ এখনও নির্দিষ্ট দিন তারিখের কোনো নোটিস দেয়নি। তা নিয়েই বাগানে সমস্যা তৈরি হয়েছে। জয় বীরপাড়া বাগানের বোনাস সমস্যা মেটাতে শ্রমদপ্তর শনিবার বীরপাড়ায় তাঁদের সহকারী শ্রম কমিশনারের অফিসে ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের ডাক দিয়েছিল। বৈঠকে ট্রেড ইউনিয়নগুলি ও শ্রমিকরা উপস্থিত থাকলেও মালিকপক্ষ গরহাজির ছিল। ফলে বৈঠক ভেস্তে যায়। জয় বীরপাড়া চা বাগানে ৫৫০ জন শ্রমিক।
সেপ্টেম্বরে শ্রমদপ্তর অ্যাডভাইজারি জারি করে জানিয়ে দেয় সমস্ত বাগান মালিককে এবছর চা শ্রমিকদের ২০ শতাংশ হারে বোনাস দিতে হবে। শ্রমদপ্তর অ্যাডভাইজারিতে ৫ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বাগান কর্তৃপক্ষকে শ্রমিকদের বোনাস প্রক্রিয়া শেষ করে দেওয়ার নির্দেশ জারি করে। কিন্তু শ্রমদপ্তরের অ্যাডভাইজারিই সার। বোনাস দেওয়া তো দূরের কথা জয় বীরপাড়া বাগান কর্তৃপক্ষ এখনও শ্রমিকদের বোনাস কবে দেওয়া হবে তার দিনক্ষণই ঘোষণা করেনি। তার উপর শ্রমদপ্তরের ডাকা শনিবারের বোনাস বৈঠকে মালিকপক্ষ অনুপস্থিত থাকায় শ্রমিকদের মধ্যে পুজোর মুখে বাগান লকআউটের আশঙ্কা জাঁকিয়ে বসেছে।
বাস্তবে জয় বীরপাড়া একটি রুগ্ন বাগান। মনে করা হচ্ছে সেই কারণেই জয় বীরপাড়া বাগান কর্তৃপক্ষ ২০ শতাংশ বোনাস দিতে অপারগ। তার কারণে বোনাস দেওয়ার দিন তারিখ এখনও ঠিক করতে পারেনি তারা। এদিন বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পর বিজেপির চা শ্রমিক সংগঠন বিটিডব্লুইউয়ের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি বুদ্ধিমান টিগ্গা বলেন, শ্রমদপ্তরের অ্যাডভাইজারি মোতাবেক বাগান কর্তৃপক্ষ ২০ শতাংশ বোনাস দিতে বাধ্য। জয় বীরপাড়া কর্তৃপক্ষকে সেই নির্দেশ মানতে হবে। শনিবার বৈঠক ভেস্তে গেলেও কাল সোমবার ফের বৈঠকের ডাক দিয়েছে শ্রমদপ্তর। দেখা যাক কি হয়।
শ্রমদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, জয় বীরপাড়ার শ্রমিকদের বোনাস সমস্যা মেটাতে ফের বৈঠকের ডাক দেওয়া হয়েছে। এদিকে সোমবারের বৈঠকেও মালিকপক্ষ গরহাজির থাকলে শ্রমিকরা বাগান লকআউটের আশঙ্কা করছে।



