Bartaman Logo
১৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিদ্রোহী ব্লকে মদন-কেষ্টও, ‘বেইমান’দের জন্য মমতা ক্ষমাপ্রার্থী

মদন মিত্র তৃণমূলের বিদ্রোহী ব্লকে যোগ দিলেন। মমতা বেইমানদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী। রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পড়ুন।

বিদ্রোহী ব্লকে মদন-কেষ্টও, ‘বেইমান’দের জন্য মমতা ক্ষমাপ্রার্থী
  • ১৬ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই সেদিনও যাঁদের অন্যতম পরিচয় ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী, গত ৪ মে’র পর তাঁরা একে একে নেত্রীর হাত ছাড়ছেন। ববি, বালু, অরূপ থেকে চন্দ্রিমা—কে নেই সেই তালিকায়! তবে তৃণমূলের ‘কালারফুল বয়’ মদন মিত্র তাঁর আগের অবস্থানেই অবিচল থাকবেন বলে মনে করছিলেন অনেকে। সেই মদনও এবার কালীঘাটের সঙ্গে যাবতীয় সম্পর্ক ছিন্ন করে যোগ দিলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদ্রোহী ব্লকে। বুধবার মমতাকে এসএমএসে তিনি লিখলেন ‘সরি’! যাবতীয় কাণ্ডকারখানা দেখে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের সরস মন্তব্য, ‘ওহ লাভলি’!

Advertisement

মদনের শিবির বদল নিয়ে হইচইয়ের মধ্যেই বিকালে ঋতব্রতকে পাশে নিয়ে কালীঘাটের বিরুদ্ধে রীতিমতো ‘কার্পেট বম্বিং’ করেন বীরভূমের অনুব্রত মণ্ডল। ফলে দিনভর যাবতীয় রাজনৈতিক আলোচনা একটি প্রশ্নেই আবর্তিত হল, ‘মমতার সঙ্গে রইলেন কে?’ সন্ধ্যায় ফেসবুক লাইভে মমতা কার্যত সেই জবাবই দিলেন তাঁর নিজস্ব ভঙ্গিমায়। তিনি বলেন, ‘বিজেপির নিজস্ব লোক নেই। কিছু বেইমানকে বেছে নিয়েছে। এই বেইমানদের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’ 
এদিন বিধানসভায় এসে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে গিয়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখান মদন। ঋতব্রত শিবিরের নেতাদের সঙ্গে হাত ধরাধরি করে ছবিও তোলেন। তারপর কালীঘাট তৃণমূলের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আনেন। বলেন, ‘আমি তৃণমূলেই আছি। শুধু এক ঘর থেকে অন্য ঘরে এলাম। সব পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছি। এবার মমতা ঠিক করুন, পরিবারতন্ত্র করবেন না পার্টি করবেন।’  প্রশ্ন ওঠে, পরিবারের সদস্যদের ইডি তলব করার পরই কেন মদন শিবির বদল করলেন? কামারহাটির বিধায়কের জবাব, ‘ইডির থেকে বেশি ভয় ছিল এবি (অভিষেক)-কে নিয়ে। ইডি ডাকলে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এবি কোথায় তাড়িয়ে দেবে, কী করবে, ভগবান জানে! আমার পরিবার ইডিকে তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করবে।’ 
মদনের এহেন তোপের  কিছুক্ষণ পরই গাড়িয়াহাটে ঋতব্রত তৃণমূলের এক বৈঠকে হাজির হন অনুব্রত মণ্ডল। তিনি বলেন, ‘আমি জেলে গিয়েছিলাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য। বীরভূম থেকে প্রতিদিন সাড়ে ৩ কোটি টাকা রাজস্ব মমতার সরকারকে দিতাম। আমি জেলে যাওয়ার পর সেটা হল প্রতিদিন ৪০ লক্ষ। ভোটে হারার পর চারবার মমতাকে ফোন করি। বললাম, তুমি চোখে দেখ না। কানে দেখ। শুধরে নাও।’ দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সহকর্মীরা হাত ছাড়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, ‘অভিষেকের বিষয়টি শুধু বাহানা। ওকে ২৫-৩০টা কেস দিয়েছে। ও বাঘের বাচ্চার মতো লড়াই করছে। কেউ কেউ বিজেপির কোলে দোল খাচ্ছে। আমি সেটিং করিনি। ১৯৯৮ সালের মতো ২০২৬-এও নতুন করে লড়াই শুরু করব।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ