Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লোকবিশ্বাস ও দেবী চৌধুরানির ইতিহাসের মেলবন্ধনই মা মন্থনী

জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত শিকারপুর হাট থেকে প্রায় তিন কিমি ভিতরে মন্থনী হাট। সেখানেই পূজিতা হন মা মন্থনী। মন্দিরের পাশেই রয়েছে দুর্গা ও কালী মন্দির।

লোকবিশ্বাস ও দেবী চৌধুরানির ইতিহাসের মেলবন্ধনই মা মন্থনী
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পবিত্র রায়, রাজগঞ্জ: জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত শিকারপুর হাট থেকে প্রায় তিন কিমি ভিতরে মন্থনী হাট। সেখানেই পূজিতা হন মা মন্থনী। মন্দিরের পাশেই রয়েছে দুর্গা ও কালী মন্দির। কে এই মন্থনী দেবী? ইতিহাসের সঙ্গে লোকবিশ্বাসের মেলবন্ধনে যাঁর পরিচয়, আজও তাঁকে ঘিরে রয়েছে নানা কাহিনি। 

Advertisement

স্থানীয় ইতিহাসচর্চা ও গবেষকদের একাংশের দাবি, মন্থনী দেবী আসলে রংপুরের মন্থনা এস্টেটের জমিদার জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানির স্মৃতির সঙ্গে যুক্ত। ব্রিটিশ আমলে অত্যাচারিত প্রজাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইংরেজ প্রশাসন ও ইজারাদারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বলে লোককথায় প্রচলিত। সন্ন্যাসী বিদ্রোহের সঙ্গে তাঁর নামও জড়িয়ে রয়েছে। এই বিষয়ে গবেষক উমেশ শর্মার বক্তব্য, বৈকুণ্ঠপুর রাজ এস্টেটের রাজা দর্পদেব রায়কতের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানি বিদ্রোহে শামিল হয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে মজনু শাহ ও ভবানী পাঠকের যোগাযোগ ছিল বলেও ঐতিহাসিক বর্ণনা ও স্থানীয় জনশ্রুতিতে উল্লেখ রয়েছে। ১৭৭৩ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সঙ্গে সংঘর্ষের সময় রাজা দর্পদেব রায়কতকে ইংরেজরা দীর্ঘদিন রংপুরে বন্দি করে রেখেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। 
লোককথা অনুযায়ী, জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠক ইংরেজদের সম্পত্তি লুট করে তা দরিদ্র ও অত্যাচারিত মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। প্রজাদের কাছে দয়াময়ী ও প্রজাপরায়ণ জমিদার হিসাবে পরিচিত ছিলেন জয়দুর্গা। তাঁর মৃত্যুর পর স্থানীয় প্রজারাই তাঁর স্মৃতিতে মূর্তি তৈরি করে মন্থনী দেবী নামে পুজো শুরু করেন বলে প্রচলিত রয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত সদুরু রায় বলেন, মন্থনী দেবী এলাকার গ্রাম্যদেবী। পুজোয় তুষ্ট হলে তিনি গ্রামকে রক্ষা করেন। তাঁর দাবি, জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠক দু’জনেই কালীসাধক ছিলেন। সেই কারণেই মন্থনী দেবীর মন্দিরের পাশেই রয়েছে কালী মন্দির। 
বর্তমানে মন্দিরের রাজসিংহাসনে বিরাজ করছেন মা মন্থনী। তাঁর বাঁ হাতে ফুল, ডান হাতে বরাভয়ের ভঙ্গি। দেবীর পরনে লালপাড় সাদা শাড়ি। নিত্যপুজোর পাশাপাশি দুধ, চিনি ও পায়েস দিয়ে দেওয়া হয় ভোগ। এছাড়া, দুর্গাপুজোর চারদিন ধূমধাম করে পুজো হয় মা মন্থনীর। ঩ভিড় করেন অগণিত ভক্ত।
ইতিহাস, জনশ্রুতি এবং স্থানীয় ধর্মীয় বিশ্বাস এই তিনের মেলবন্ধনে আজও মন্থনী হাটে পূজিতা হয়ে আসছেন মা মন্থনী। তবে মন্থনী দেবীর সঙ্গে ঐতিহাসিক জয়দুর্গা দেবী চৌধুরানির সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে আরও প্রামাণ্য গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন ইতিহাসচর্চার সঙ্গে যুক্তরা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ