নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: এখন আর ইয়াবা, ব্রাউন সুগার বা হেরোইনে সীমাবদ্ধ নয়। রায়গঞ্জের মাদক কারবারিদের নজরে এবার আন্তর্জাতিক মানের বিরল মাদক এমডিএমএ বা ‘লাভ ড্রাগ’। দিন কয়েক আগেই দুই মাদকচক্রীর কাছ থেকে বাণিজ্যিক পরিমাণে যৌন উদ্দীপক এই নেশার সামগ্রী পাওয়া গিয়েছে। যা প্রথমবার রায়গঞ্জের মাদক কারবারিদের কাছে পাওয়া গেল। তাতেই রীতিমতো হতচকিত তদন্তকারীরা।
তাঁদের বক্তব্য, অন্যান্য মাদকের তুলনায় এই মাদক অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাই গুরুত্ব বিচার করে, মাত্র ১০ গ্রাম বা তার থেকে বেশি পরিমাণে এমডিএমএ কারও কাছে পাওয়া গেলেই, সেটিকে আইনি ভাবে বাণিজ্যিক পরিমাণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। মাদক দমন আইনে মাদকটি হেপাজতে রাখা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে দেখা হয়। এই মাদক পাওয়া গেলে ১০ থেকে ২০ বছরের কঠোর কারাদণ্ড, সঙ্গে লক্ষাধিক টাকার জরিমানা হতে পারে। এক্ষেত্রে অভিযুক্তদের জামিনও পাওয়া প্রায় অসম্ভব। পুলিশ অন্যান্য মাদকের মামলার থেকেও এই মামলাকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, এই মাদক মালদহের কালিয়াচক বা তার পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে পাচার হয়ে রায়গঞ্জের কারবারির কাছে এসেছে। এখন তদন্ত করে দেখা, রায়গঞ্জে এই মাদকের চাহিদা আছে কিনা? এখানেই এটির কোনো খরিদ্দার রয়েছে কি না? নাকি ট্রানজিট করিডর হিসেবে রায়গঞ্জে ঢোকে। পরবর্তীতে এটি আবার হাত বদল হয়ে অন্যত্র পাচার হত।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত বুধবার রাতে রায়গঞ্জ থানার অধীন কর্ণজোড়া ফাঁড়ির পুলিশ কুলিক ব্রিজ থেকে রবিতুল্লা মহম্মদ ও তাঁর ছেলে রকব্বুল হোসেন ওরফে রব্বুল এর কাছ থেকে ব্রাউন সুগারের পাশাপাশি ৮৯ গ্রাম এমডিএমএ মাদক, নগদ ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা উদ্ধার করে। জেলা আদালতে হাজির করে দুই ধৃতকে ১০ দিনের জন্য হেপাজতে নেয় পুলিশ। এখন পুলিশ ধৃতদের কাছ থেকে এই মাদকের ব্যাপারে বিস্তারিত খোঁজখবর শুরু করেছে।