


নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: জ্ঞানেশ্বরী রেল দুর্ঘটনার ভয়াবহ স্মৃতি উস্কে রেল লাইনের ধারে বিকট শব্দ! থমকে গেল ভুবনেশ্বর-দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস। রবিবার বিকেলে গড়বেতার শিলাই হল্ট স্টেশনের কিছুটা আগে ঘটনাটি ঘটে। ভয় পেয়ে যান চালক ও গার্ড। ততক্ষণে অবশ্য ট্রেনটি শীলাবতী নদীর রেল সেতুতে উঠে পড়েছে। সেতু পেরিয়ে ট্রেনটিকে দাঁড় করিয়ে দেন তাঁরা। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের যন্ত্রাংশ খতিয়ে দেখার পর ফের যাত্রা শুরু হয়। পিয়ারডোবা স্টেশনে গিয়ে ঘটনার সবিস্তার রিপোর্ট জমা করেন চালক। তারপর যথারীতি নয়াদিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় রাজধানী।
ঘটনাস্থলটি একদা মাওবাদী অধ্যুষিত এলাকার মধ্যে পড়ে। তারউপর গতকাল ছিল মাওবাদীদের ডাকা বন্ধ। স্বাভাবিকভাবেই বিস্ফোরণের মতো অবিকল শব্দে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর যাত্রীদের মধ্যে। ঘটনাস্থল সংলগ্ন গ্রামবাসীরাও ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। ২০১০ সালে জ্ঞানেশ্বরী রেল দুর্ঘটনাও ঘটেছিল মাওবাদীদের কালদিবস পালনের মধ্যে। তবে, সোমবার রাত পর্যন্ত গড়বেতার ওই রেল লাইনের পাশে বিকট শব্দের পিছনে বিস্ফোরণ নাকি অন্যকিছু, তা নিয়ে ধোঁয়াশায় রেল। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, আচমকা কানফাটা আওয়াজ শুনতে পান তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গেই গোটা এলাকা ঢেকে যায় সাদা পাউডারে। রাতে প্রবল বৃষ্টি হয়। ফলে, পরের দিন সকালে ওই জাতীয় পদার্থের কোনও অস্তিত্ব মেলেনি।
এদিন ঘটনাস্থলে যান রেল পুলিসের আধিকারিক ও দুই সদস্যের ফরেন্সিক দল। তাঁরা রেল লাইন ও ঘটনাস্থল থেকে নানা ধরনের নমুনা সংগ্রহ করেন। সেগুলি ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার বহু সময় বাদে পৌঁছয় ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা। ততক্ষণে পাউডার জাতীয় যে পদার্থ ছড়িয়ে পড়েছিল, তার কোনও নমুনা সম্ভবত পাননি তাঁরা। ফলত, ঘটনাটির তদন্তে রেলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। আদ্রা ডিভিশনের রেলের এডিআরএম খগেন্দ্রনাথ ঘোষ সংবাদ মাধ্যমে জানান, রিপোর্ট পাওয়ার পরই রেলের কর্মীরা গিয়েছেন এলাকায়। ফরেন্সিক ল্যাবে পাঠানো হচ্ছে নমুনা। এখনই ঘটনা সম্পর্কে স্পষ্ট কিছু বলা যাবে না।
রেল ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গড়বেতা রেল স্টেশন থেকে আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার দূরে শিলাবতী নদীর উপর রেলের সেতু। তাতে ওঠার আগে শিলাই হল্ট স্টেশন। রবিবার বিকেল তখন ৪ টে ১১ মিনিট। দ্রুত গতিতে ডাউন লাইন ধরে ছুটছিল ভুবনেশ্বর-দিল্লিগামী রাজধানী। স্টেশনে ঢোকার ঠিক আগে ১৭৭/২৬ ও ১৭৭/২৮ ইলেকট্রিক খুঁটির মাঝে বিকট শব্দ শোনা যায়। সেতু পার করে ট্রেনটিকে দাঁড় করিয়ে দেন চালক। কিসের শব্দ তা বোঝার চেষ্টা করে ট্রেনের চালক ও গার্ড। পিয়ারডোবা স্টেশনে রিপোর্ট করার পরই পুলিস কুকুর ও রেল পুলিসের আধিকারিকরা এলাকায় আসেন। রাতে প্রাথমিক তদন্ত হয়। সোমবার দুপুরে ফের ফরেন্সিক দল আসে। বিশেষজ্ঞরা প্রায় এক ঘন্টা ধরে রেল লাইন ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকা পরীক্ষা করেন। দলের সদস্য দেবাশিস সাহা বলেন, ‘এখনই কিছু বলা যাবে না। বেশকিছু নমুনা সংগ্রহ করেছি। সেগুলি পরীক্ষা করা হবে। রেলের এক কর্মী ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে বলছিলেন, অনেক সময় লাইনে ডিটোনেটর ব্যবহার করা হয়। লাইনে কোনও সমস্যা থাকলে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে, এখানে এই ডিটোনেটর ব্যবহার করা হয়নি।