নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বাড়ির ছাদে ফুটছে পদ্মফুল। গামলাতেই চাষ হচ্ছে। নভেম্বর থেকে জানুয়ারি বাদ দিলে সারা বছরই ছাদ রঙিন করে রাখছে বিভিন্ন প্রজাতির পদ্ম। আগে দুর্গাপুজোয় এই ফুল জোগাড় করতে কসরত করতে হত। এখন ছাদ থেকে ফুল তুলে দেবীর কাছে অর্ঘ্য নিবেদন করা হচ্ছে। অনেক ছাদে অষ্টমীর জন্য ১০৮টি ফুলও জোগাড় হয়ে যাচ্ছে। বাড়ির ছাদে বাগান তৈরির শখ বাঙালির বহুদিনের। কিন্তু পদ্ম বাগান তৈরির ট্রেন্ড নতুন। এই শখ অনেককেই আয়ের দিশা দেখাচ্ছে। এখন নার্সারিতে পদ্মগাছ তৈরি করে গামলা সহ বিক্রি হচ্ছে। অনলাইনে অর্ডার করলে বাড়িতেই পৌঁছে যাচ্ছে গাছ। দেশি ছাড়াও হাইব্রিড প্রজাতির গাছও নার্সারিতে তৈরি করা হচ্ছে। এই গাছের ফুল অনেকটাই বড়।
বর্ধমানের বাসিন্দা পিনাকী সরকার বলেন, একসঙ্গে অনেক ফুল ফুটে থাকলে ছাদের সৌন্দর্য বদলে যায়। কুয়াশা পড়তে থাকলে গাছে ফুল কমে যায়। এছাড়া সারা বছর গামলা ভর্তি গাছ থাকে। শহরের নীলপুরের বাসিন্দা কৃষ্ণ ঘোষ বলেন, এখন গাছ ফুলে ভরে রয়েছে। দুর্গাপুজোতেও ছাদের ফুল মায়ের পায়ে অর্পণ করব। একসময় আমাদের ধারণা ছিল জলাশয়ের পাঁকেই এই গাছ হয়। কিন্তু এখন সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। বড় আকৃতির গামলায় গোবর সার, মাটি দিলেই পদ্ম গাছ হয়ে যায়। মাধবডিহির বাসিন্দা বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিদ্যার প্রাক্তন ছাত্রী মৌটুসি মণ্ডল বলেন, একটু যত্ন নিলে প্রায় সারা বছরই ভাল ফুল হয়। পুজোর চারদিন টাটকা ফুল তুলে মা’কে নিবেদন করা যায়। অনেকেই বিভিন্ন ধরনের গাছের সঙ্গে এখন পদ্মফুল চাষ করছেন। আগের চেয়ে গামলায় পদ্ম চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, এটাই বিজেপির ক্যারিশমা। বাংলার মানুষ পদ্মকে আপন করে নিয়েছে। পদ্ম চাষিরা বলছেন, থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনামের উদ্ভিদ বিজ্ঞানীরা পরাগমিলন করে বিভিন্ন প্রজাতির পদ্ম গাছ তৈরি করেছেন। এই ফুলগুলি অনেকটাই বড় হয়। দেশি গাছের তুলনায় বেশি ফুল হয়। ওয়াডসানা, বুচা, গ্রিন অ্যাপল, রেড পিওনি, হোয়াইট পিওনি, মোহং, স্নো হোয়াইট, আলটিমেট থাউজেন্ড পেটাল সহ নানা জাতের হাইব্রিড পদ্ম শোভা পাচ্ছে।
এক নার্সারির মালিক বলেন, অনেকে টিউবার কিনে নিয়ে যান। পদ্মের মূল টিউবার নামে পরিচিত। দেশির তুলনায় ভিনজাতের গাছের দাম বেশি। হলুদ, গোলাপি, সাদা সহ বিভিন্ন রংয়ের ফুল গামলায় ফুটে থাকে। পুজোর জন্য ব্যবসায়ীরা অনেক আগে থেকে ফুল তুলে রেখে সংরক্ষণ করেন। সেগুলি টাটকা থাকে না। কিন্তু বাগান থেকে তোলা পদ্ম সতেজ থাকে। নিজের পছন্দের ফুল মা’কে দেওয়া হয়। অষ্টমীর পুজোর জন্য ১০৮টি পদ্মফুল জোগাড় করতে এখন বেশি কসরত করতে হয় না। অর্ঘ্য নিবেদনের পাশাপাশি ছাদে উঠলে পদ্ম বাগান দেখে যে কারও মন ভাল হয়ে যায়।
নিজস্ব চিত্র