দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ইন্দিরাপুরম, নয়ডা বা গুরুগ্রাম। দিল্লি এনসিআর এলাকার পুজোয় এবছর হারিয়ে যাওয়া বাঙালিয়ানাকে খুঁজে ফিরবে বাঙালি। কোথাও মহানায়ক উত্তমকুমারের চিরকালীন আবেদন বা সুতানুটি গ্রাম থেকে আস্ত কলকাতা হয়ে ওঠার গল্প। কোথাও আবার একটুকরো গ্রামবাংলার প্রতিচ্ছবি। বাঙালিয়ানার মোড়কে থিমের লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দিতে মরিয়া দেশের রাজধানী শহরের সংলগ্ন পুজো উদ্যোক্তারা।
ইন্দিরাপুরম ‘বঙ্গতরু’র পুজোর এবার ২৬তম বর্ষ। এবছর তাদের থিম ‘এই পথ যেন না শেষ হয়।’ নামেই স্পষ্ট, থিমে ‘বঙ্গতরু’র কর্মকর্তারা মূলত কাকে স্মরণীয় করে রাখতে চাইছেন। পুজোর সভাপতি বাসব ভট্টাচার্য বললেন, ‘মহানায়ক উত্তমকুমার ছিলেন আমাদের ম্যাটিনি আইডল। আমাদের ছেলেমেয়ে দিল্লি এনসিআরে বড়ো হয়েছে। উত্তমকুমারের নাম শুনলেও হয়তো তাঁর সিনেমার সঙ্গে এখানকার তরুণ প্রজন্ম সেভাবে পরিচিত নয়। পাশাপাশি, হিন্দিভাষীদের কাছেও উত্তমকুমারকে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দিতে চাই আমরা।’ মহানায়কের জন্মশতবর্ষে ‘বঙ্গতরু’র পুজো মণ্ডপ তাই সেজে উঠছে উত্তমকুমারের সিনেমার অসংখ্য পোস্টার এবং কাট-আউটে। আবহ সংগীত হিসাবে থাকবে মহানায়ক অভিনীত বিভিন্ন ছবির বিখ্যাত সংলাপ। ইন্দিরাপুরমের আরেক পুজো ‘প্রান্তিক’ এবার ১৮তম বছরে পা দিচ্ছে। উত্তমকুমারে ভর করে ‘বঙ্গতরু’ যদি বাঙালিয়ানায় মাতে, ‘প্রান্তিক’ তবে তুলে ধরছে কলকাতার যাত্রাপথকে। তাদের থিম ‘সুতানুটি থেকে কলকাতা, বাঙালির গল্পগাঁথা’। মণ্ডপজুড়ে থাকবে এসংক্রান্ত ‘ইনস্টলেশন’। সেই সময়ের বিখ্যাত ‘বাবু’ কালচার বিশেষভাবে স্থান পাবে মণ্ডপে। থাকবে পুরানো কলকাতার ট্রাম, হলুদ ট্যাক্সি, নদীপথে পরিবহণের ছবি। কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদিকা দেবযানী সামন্ত বলেন, ‘এখানে থাকলেও আমাদের মূল ভিত তো বাংলা। কলকাতা তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সেই কলকাতা তৈরিরই গল্প বলব আমরা।’ ‘বঙ্গতরু’, ‘প্রান্তিক’ বা ইন্দিরাপুরম ‘শিপ্রা রিভেরার পুজো’র প্রতিমায় বরাবরের মতো থাকবে সাবেকি ছোঁয়াই।
নয়ডা সেক্টর ৬১-এর ‘বলাকা’র পুজোয় এবার দেখা মিলবে কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের। পুজোর অন্যতম আয়োজক অনুজ চক্রবর্তী জানালেন, ‘ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের আদলে ৬৩ ফুট উঁচু মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে।’ উদ্যোক্তাদের দাবি, তা এতটাই নিখুঁত হবে যে আসল এবং নকলের ফারাক গুলিয়ে ফেলবেন দর্শকরা। সাইবার সিটি গুরুগ্রামে এবার চোখ টানতে তৈরি একটুকরো গ্রামবাংলা। সৌজন্যে ‘বঙ্গীয় পরিষদ গুরগাঁও’। বিপিজির পুজোর বয়স এবার ২১ বছর। পুজো কমিটির সভাপতি মলয় নন্দীর কথায়, ‘গুরুগ্রাম সাইবার সিটি। হাইটেক সিটি। এখানে গ্রামবাংলা কল্পনা করাও দুষ্কর। এখনকার প্রজন্ম গ্রামবাংলার সঙ্গে পরিচিত নয়। কোথাও কোনো সুতো থাকলেও তা যেন ক্রমেই আলগা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের চেষ্টা থাকবে, ওই গ্রামবাংলাকে বাঁচিয়ে রাখার।’ মণ্ডপে থাকবে হুঁকো, প্রবীণদের আলস্য, গ্রামাঞ্চলের গাছগাছালি, এমনকি পাতকুয়োর নানা ‘ইনস্টলেশন’। এবারের পুজোয় বঙ্গীয় পরিষদের সৌজন্যে সাইবার সিটিতে কিছুক্ষণের জন্য হলেও থমকে দাঁড়াবে সময়।