


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: নৈহাটিতে সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের রথ এখনও সাড়ম্বরে পথে নামে। তবে সেই রথে থাকেন না জগন্নাথ। থাকেন বলরাম, রাধাবল্লভ ও অনন্তদেব। নিয়মানুযায়ী এই পরিবারের রথ কাল, শুক্রবার দু’বার বেরবে। সকালে একবার বলরামকে নিয়ে, বিকেলে একবার পারিবারিক দেবতা রাধাবল্লভজিউ ও অনন্তদেবকে নিয়ে। তাই এটা রাধাবল্লভের রথযাত্রা বলেই পরিচিত। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বড়দা শ্যামাচরণ চট্টোপাধ্যায় ১৮৫৮ সালে নৈহাটির কাঁঠালপাড়ায় এই রথের সূচনা করেন। লোহা এবং পিতলের তৈরি রথটি কুড়ি ফুট উঁচু। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের মা দুর্গাসুন্দরী দেবীর নামে সংকল্প করে প্রথম এই রথ বেরিয়েছিল। ওই পরিবারের নিয়ম অনুযায়ী পরিবারের বধূর নামে সংকল্প হয়। এবার যেমন ওই পরিবারের বর্তমান উত্তরাধিকারী শান্তনু চট্টোপাধ্যায়ের স্ত্রী বর্ণালি চট্টোপাধ্যায়ের নামে সংকল্প করে রথের সূচনা হবে। তিনিই প্রথম রথের দড়ি টানবেন।
বঙ্কিমচন্দ্রের উত্তরসূরি শান্তনু চট্টোপাধ্যায় বলেন, পারিবারিক সূত্রে জেনেছি, এই রথের সূচনা হয় ১৮৫৮ সালে। সেই থেকে পরম্পরা মেনে চলে আসছে। কালের নিয়মে কিছু পরিবর্তন এসেছে। তবে পুজো যেমন আগে হতো, তেমনই হয়ে আসছে। ন’দিন ধরে মেলাও হয়। বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল ঝুলনযাত্রা। সোজা রথ ও উল্টোরথের দু’দিন বাদ দিয়ে বাকি সাত দিন রাধাবল্লভকে নানা বেশে সাজানো হয়। সোজারথের পরের দিন গরুড়বাহন এবং উল্টোরথের আগের দিন গোষ্ঠবিহার বেশ নির্দিষ্ট থাকে। সোজা রথ ও উল্টোরথের মধ্যে মঙ্গল ও শনিবার পড়লে, সেদিন রাধাবল্লভকে কৃষ্ণকালী বেশে সাজানো হয়। বাকি দিনগুলি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে রাইরাজা, কালীয় দমন, নৌকাবিলাস, সত্যভামার দর্পচূর্ণ, বস্ত্রহরণ, বিষ্ণুর অনন্তশয্যা বেশে সাজানো হয়ে থাকে। রথযাত্রার সময় রাধাবল্লভকে চারবার ভোগ নিবেদন করা হয়। সকালে ফলমূল ও মিষ্টি দিয়ে বাল্যভোগ। দুপুরে চার রকমের অন্নভোগ দেওয়া হয়। সেখানে থাকে সাদা ভাত, পোলাও, খিচুড়ি, মুসুর বাদে যে কোনও ডাল, পাঁচরকম ভাজা, দুটি তরকারি, অম্বল ও মিষ্টান্ন। বৈকালিক ভোগে থাকে ফলমূল ও মিষ্টি। রাতে শীতলভোগে থাকে লুচি, ছানা ও মিষ্টি। উল্টোরথের দিন বিশেষ ঘি ভাত (পোলাও) দেওয়া হয়। রথের সময় বঙ্কিমচন্দ্রের বাড়ির দালানে সেই প্রাচীন আমল থেকেই হয়ে আসছে মেলা। মেলায় গাছের চারা থেকে শুরু করে নানা ধরনের খাবার পাওয়া যায়। বছরের পর বছর ধরেও সাহিত্যসম্রাটের পরিবারের উত্তরসূরিদের এই রথ ঘিরে ন’দিন উৎসবমুখর থাকে নৈহাটির কাঁঠালপাড়া। নৈহাটি পুরসভা এজন্য আলো লাগানো থেকে শুরু করে সব রকম ব্যবস্থা করে বলে চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন।
-নিজস্ব চিত্র